ভারতের বিশেষ ধরনের কিছু সুতা, তুলা ও রাসায়নিক বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য দরকারি কাঁচামাল। এসব পণ্যের আমদানি সহজ হলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে বলে দাবি শিল্প মালিকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রপ্তানি খাতের কাঁচামালে চীন নির্ভরতা কমাতে বড় বিকল্প ভারত।
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ বিবেচনায় ভারত দ্বিতীয় বৃহৎ অংশীদার। ২০২১ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিলো প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। পরের কয়েকবছরই দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের ঘরে থাকছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে তুলা, সুতা, জ্বালানিতেলসহ ভারতের মোট রপ্তানি ছিল ১ হাজার ১২৫ কোটি। অন্যদিকে গত অর্থবছর এশিয়ায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি ছিল ভারতে ১৭৪ কোটি ডলারের পণ্য।
১ বছরের বেশি সময় ধরেই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সুতা আমদানি বন্ধ রয়েছে। বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, উচ্চমূল্যের ভিসকসসহ বিশেষ ধরনের সুতা দেশে তৈরি হয় না। সমুদ্রপথে আমাদানিতে সময় লাগছে ১ মাস। কমছে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বর্তমানে জ্বালানি সংকটে দেশের টেক্সটাইল কারখানাগুলোর উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকের নিচে। এমন অবস্থায় তৈরিপোশাক শিল্পে রপ্তানির গতি ধরে রাখতেও ভারতীয় কাপড়-সুতার মতো কাচামাল ব্যবহারের পক্ষে গবেষকরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি সংকটে পোশাক রপ্তানির গতি ধরে রাখতে ভারত থেকে কাপড় আমদানি দরকার হতে পারে। ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েন এড়িয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ জোরদার করলে কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



