বিদ্যুৎ খাতে মূল চ্যালেঞ্জ জ্বালানি আমদানি ও বকেয়া পরিশোধে অর্থের সংস্থান 

বিদ্যুৎ খাতে চাহিদামতো জ্বালানি আমদানি ও বকেয়া পরিশোধে অর্থের সংস্থানই মূল চ্যালেঞ্জ। ফলে, সেপ্টেম্বর মাসেও দিনের কোনো কোনো সময় লোডশেডিং ছাড়াচ্ছে আড়াই হাজার মেগাওয়াট। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সংগঠন বলছে, পিডিবি থেকে বকেয়ার অর্ধেক অর্থ পেলেও, তেলভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। যা শিল্পখাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। 

বিদ্যুৎ খাতে দেশের স্থাপিত সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এরমধ্যে গ্যাস, কয়লা, ফার্নেস ওয়েলের মত জীবাশ্ম জ্বালানির কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা সাড়ে ২৬ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুতের জন্য জ্বালানির ৬৫ ভাগই আমদানি করতে হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। অর্থ সংকট, হরমুজ প্রণালীর অবরোধে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সরবরাহ।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘৩০ হাজার মেগাওয়াট আমাদের সক্ষমতা আছে। কিন্তু পাওয়ার প্ল্যান্ট চালানোর জন্য জ্বালানিও আমরা সরবরাহ করতে পারছি না।’

এদিকে, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সংগঠন-বিপপার কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-বিপিডিবির কাছে ৬ থেকে ৭ মাসের বিদ্যুৎ বিল পায়। বড় অংকের বকেয়া আটকে থাকায় জ্বালানি আমদানির সক্ষমতা হারিয়েছেন অনেকেই। ফার্নেসওয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন নেমেছে গড়ে ৪০ শতাংশে। 

বিপপা সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, ‘সরকার যদি দ্রুত আমাদের পাওনা পরিশোধ নিয়মিত করে ফেলে তাহলে আমরা দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তেলগুলো নিয়ে আসব। এবং আমরা তিন হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎদদিতে পারব। তাহলে সরকারি ও বেসরকারি যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আছে সেখান থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট সে বন্ধ করে দিতে পারে। এই গ্যাসটা সে তখন শিল্প–কারখানায় দিতে পারে।’


সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘যেহেতু এখন উচ্চমূল্যে এলএনজিও আমদানি করতে হচ্ছে, তারপরে সরকারকে কিছুদিন পরপর বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে, সেক্ষেত্রে হয়তো সরকারের একটা পরিকল্পনা আছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনটা আগে দেবে। তাদের বোঝাপরার ভিত্তিতেই এটা হবে।’

পর্যাপ্ত কয়লার অভাবে বেশিরভাগ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলছে সক্ষমতার কমে। এছাড়া ভারতের ঝারখন্ডে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বিপিডিবির বকেয়া প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা। তারাও সম্প্রতি কমায় বিদ্যুতের সরবরাহ।