রপ্তানির জন্য ১ লাখ ২১ হাজার কেজি পণ্য দেখানো কনটেইনারে মিলল না কিছুই

চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ‘এছাক ব্রাদার্স ডিপো’ থেকে পাঁচটি কনটেইনারে পণ্য রপ্তানির সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম কাস্টমসের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে কনটেইনারগুলোকে রপ্তানি চালান হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব কনটেইনারে মোট ১ লাখ ২১ হাজার কেজি পণ্য থাকার কথা উল্লেখ ছিল।

শেষ ধাপে শুধু কনটেইনারগুলো জাহাজে তোলার অপেক্ষা ছিল। এর মধ্যেই কনটেইনারগুলোর বিষয়ে সন্দেহ হলে সেগুলোতে তল্লাশি চালান কাস্টমস গোয়েন্দারা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, পাঁচটি কনটেইনারের কোনোটিতেই পণ্য নেই। খালি কনটেইনারই পণ্যভর্তি দেখিয়ে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনা তদন্তে দুই কমিটিতে মোট ১০ জন সদস্য রাখা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, পাঁচটি কনটেইনার নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে গত ৩ সেপ্টেম্বর কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে রপ্তানি-সংক্রান্ত ঘোষণা যাচাই করতে এছাক ব্রাদার্স ডিপোতে যান। সেখানে প্রথমে সন্দেহজনক পাঁচটি চালান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিপো পরিদর্শন করে রপ্তানি পণ্যগুলো কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল ইন্সপেকশন) করার জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ডিপো কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট—কেউই পরীক্ষার জন্য কোনো পণ্য উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আমাদের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ওই ডিপো থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।’

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স প্রিন্স মোবিং এজেন্সির মালিক মাহমুদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত রপ্তানি প্রক্রিয়ায় পণ্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) নেওয়া হয়। সেখানে কাস্টমসের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর পণ্য জাহাজে তোলা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো রপ্তানি পণ্য ছাড়াই পাঁচটি কনটেইনারের কাস্টমস-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জাহাজে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

তবে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চালানটি আটকে দেওয়ায় প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার সন্দেহজনক ভুয়া রপ্তানি ঠেকানো গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চালানটি গাজীপুরের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিডি কমিশনারেট, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।’

কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। এর মধ্যে জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও ডেনমার্ক উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও রাশিয়াতেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার রয়েছে।

তবে আলোচ্য পাঁচটি চালানের গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এ কারণে চালানগুলো নিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দাদের মধ্যে আরও সন্দেহ তৈরি হয় এবং সেগুলো যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।