দেশের বাজারে এক লাফে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ সর্বস্তরের মানুষ। ঘোষণা ছাড়া পণ্য পরিবহণ ও গণপরিবহণের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় হতাশ যাত্রী ও শ্রমিকরা। একইভাবে রাইড শেয়ারিং চালকদের আয়ও প্রায় অর্ধেক নেমে আসায় হতাশ তারা।
সাধারণ মানুষ বলছেন, নিত্য পণ্যের উর্ধ্বগতির মধ্যে বারবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়াবে।
রাইড শেয়ারিং করেন মো. আলমগীর হোসেন। তপ্ত দুপুরে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন যাত্রীর জন্য। আজ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত যথেষ্ট আয় করতে না পেরে হতাশ তিনি। জ্বলানির দাম বাড়লেও ভাড়া বাড়াতে পারছেন না। আবার ভাড়া বাড়ালে যাত্রী মিলছে না।
মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু আমরা বাড়তি ভাড়া আদায় করতে পারতেছি না। ভাড়া একটু বেশি চাইলে যাত্রীরা উঠতেও চাচ্ছে না। দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আজকে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচশো টাকাও আয় করতে পারিনি।’
শুধু রাইড শেয়ারিং নয়, একই চিত্র গণপরিবহণ ও পণ্য পরিবহণের শ্রমিকদেরও। তেলের দাম বাড়ায় প্রতিদিনের খরচ বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি তাদের মজুরি কিংবা আয়্।
এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘আমরা জনগণ হলাম গিনিপিগ। আমাদের ওপর যা খুশি এপ্লাই করতে থাকুক। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো বাঁশি বাজিয়ে আমাদের ইদুরের মতো পেছনে পেছনে নিতে থাকুক। কোনো একসময় ইদুর বাঁশিওয়ালাকে খেয়ে ফেলবে।’
আরেক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এরমধ্যে বাড়িয়েছে তেলের দাম। এখন জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে।’
একজন পরিবহন শ্রমিক বলেন, ‘বেশি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা চিৎকার চেঁচামেচি করছে– আমরা বেশি ভাড়া কেন দেব?’
এক পিকআপ চালক বলেন, ‘দেশে সব ব্যবসায়ীরা জনগণকে জিম্মি কইরা টাকা লুটপাট করতাছে।’
এদিকে, রাজধানীর গণপরিবহণে ভাড়া নৈরাজ্য শুরুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মালিক সমিতির ঘোষণা না থাকলেও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের।
মহাখালীতে একটি বাসের যাত্রী বলেন, ‘আমি যে রুটে এসেছি বাসের ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু আজ তেলের দাম বাড়ার কথা বলে ৫ টাকা বেশি নিয়েছে।’
সীমিত আয়ের মানুষদের আশঙ্কা, আয় না বাড়লেও পরিবহণ খাতের এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়বে নিত্যপণ্যের দামে। এতে পরিবার নিয়ে হিমশিম খাওয়ার শঙ্কা তাদের।
মহাখালী বাস টার্মিনালের এক ঝালমুড়িওয়ালা বলেন, ‘আমাদের মতো যাদের আয় সীমিত তাদের জন্য সামনের সময়টা আরও কঠিন হবে। আমাদের তো বাচ্চাদের লেখাপড়া করাতে হবে।’
এক তরমুজ বিক্রেতা বলেন, ‘আমাদের বাসা ভাড়া ও বাজার খরচ বাড়বে। এদিকে বেচাকেনাও কমে গেছে।’
মানুষকে স্বস্তি দিতে জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে অপচয় ও দূনীতি কমানোর দাবি নির্ধারিত আয়ের মানুষদের।