প্রায় ১৭ বছর পর আবারো জাপানের আকাশে পাখা মেলতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় ঢাকা থেকে সরাসরি নারিতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বিমানের প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। এরই মধ্যে ফ্লাইটটির শতাধিক টিকিটও বিক্রি হয়েছে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম জানান, নতুন রুট লাভজনক করতে বিভিন্ন বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কোড শেয়ারিং করা হবে।
বন্ধু প্রতিম দেশ জাপানের সঙ্গে ১৯৭৯ সালে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে নানা কারণে ২০০৬ সালে তা বন্ধও হয়ে যায়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে সপ্তাহে তিনদিন ঢাকা-নারিতা রুটে চলবে বিমানের ২৭১ আসনের বোয়িং সেভেন এইট সেভেন ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ।
এরই মধ্যে প্রথম ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ১১৫টি। ওয়ানওয়ে টিকিটের ভাড়া রাখা হচ্ছে ৪৯ হাজার ১০০ টাকা। আর রিটার্ন ভাড়াও নির্ধারন করা হয়েছে ৮৪ হাজার ৪৯৬ টাকা।
রুটটি লাভজনক করতে কোড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইউরোপসহ অন্যান্য গন্তব্যে কিভাবে যাত্রী পাঠানো যায় তার জন্য সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান বিমান প্রধান। এয়ারলাইন্সটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম বলেন, ‘দিল্লি থেকে এসেও যাতে আমাদের নারিতা ফ্লাইটটা ধরতে পারে। এই জিনিসগুলোকে আমরা সিডিউল-রিসিডিউল করেছি। তারপরও আমরা চিন্তা করছি নারিতা থেকে যদি আমরা সিডনি বা কম্বোডিয়া নিয়েও আমরা চিন্তা ভাবনা করছি। এ ধরনের কোনো ইন্টারলাইন করা যায় কিনা।’
জাপানের নারিতায় ফ্লাইট চালু করতে কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বিমান। ফ্লাইট শুরুর বিষয়ে জাপান সরকারের অনুমোদনও বেশ আগেই পায় বিমান। সে সময়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরকে ঘিরে ফ্লাইট শুরুর পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিলো। তবে সফরটি বাতিল হওয়ায় তা হয়নি।
সে সময় ফ্লাইট শুরুর প্রস্তুতির জন্য এ বছরের মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছিলো জাপান কর্তৃপক্ষ।
জাপানে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমানকে ফিফথ ফ্রিডম সুবিধা দিয়েছে দেশটি। অর্থাৎ ঢাকা ও নারিতার মধ্যবর্তী একটি বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়েও এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে।
এভিয়েশন বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপানে প্রবাসি বাংলাদেশীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তাই এ রুট লাভজনক করতে হলে বিমানকে ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে যাত্রী পরিবহন করতে হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো ভাবেই শুধুমাত্র ওই যাত্রীকে নিয়ে ভাবলে চলবে না। আমাদের আরও বেশি যাত্রী নিতে হবে। শুধু ঢাকা-নারিতা না করে যদি নর্থ ইস্টের দেশগুলোতে আমরা যাই বিশেষ করে জাপান-গোয়াংজু, এখান থেকে যাত্রী এনে কিন্তু আমরা ওয়েস্টে যেতে পারি।’
ঢাকা থেকে শুক্র, সোম ও বুধবার নারিতা যাবে বিমান। আর শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার জাপান থেকে ঢাকায় আসবে।