প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩, ০৭:১৮ পিএমআপডেট : ২৮ মে ২০২৩, ১০:১৬ পিএম
ছবি: পিক্সেল
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে আকাশপথে যুক্ত হতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমান সংস্থা গাল্ফ এয়ারের সাথে কোড শেয়ার চুক্তিতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি আশা করছে, এর মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে পারবে তারা।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সাথে গাল্ফ এয়ারের, এই প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে কোড শেয়ারিং হচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হলে এখন যে রুটগুলোতে ফ্লাইট চালানোর অনুমোদন আছে কিন্তু ফ্লাইট নেই, সেই রুটগুলোতে নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবে বিমান।
বিমান বেশ কয়েক বছর ধরেই বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের সাথে কোড শেয়ার চুক্তি করার চেষ্টা করছে। এ তালিকায় জাপান এয়ার ও এয়ার কানাডার মতো এয়ারলাইন্সের নামও আছে। তবে সেগুলো এখনও সফলতার মুখ দেখেনি।
এরই মধ্যে কানাডার টরন্টোতে ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করেছে বিমান। জাপানের নারিতায় ফ্লাইট শুরুর কথা রয়েছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে।
গাল্ফ এয়ার হলো বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা। এয়ারলাইন্সটি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রায় ৫০টি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। এক সময় এটিই ছিল বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার ও ওমানের একমাত্র আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স।
গাল্ফ এয়ারের সাথে এই চুক্তি অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম। তিনি বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল হচ্ছে বা কক্সবাজারের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাদেশকে যদি আমরা হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, তাহলে বিমানকেই এগিয়ে আসতে হবে।’
শফিউল আজিম বলেন, ‘আমাদের সাথে গাল্ফ এয়ারের এই প্রথম কোড শেয়ারিং হচ্ছে। আমাদের ইউরোপে প্যাসেজ না থাকলেও এই কোড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমরা ইউরোপে আমাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে পারব। তাদের উড়োজাহাজে আমাদের বোর্ডিং পাস নিয়ে যাত্রীরা যেতে পারবেন।’
গাল্ফের সাথে কোড শেয়ার চুক্তি ইউরোপের বাজারে বিমানের অবস্থান শক্ত করতে সহায়ক হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা বিমানের জন্য খুব ভালো হবে। কারণ যে রুটে সে যাচ্ছে না বা যেতে পারছে না, কিন্তু অনুমোদন আছে, সেখানে গেলে যেটা হবে রুটটা আমাদের জন্য ডেভেলপ হবে।’
এটি চালু হলে আন্তর্জাতিক অন্য রুটগুলোতেও বিমান সুবিধা পাবে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘বিমানকে মানুষ চিনবে। কারণ টিকিট কাটতে গেলে বিমানের টিকিট কাটতে হবে। উড়োজাহাজ একটাই হবে কিন্তু টিকিট হয়তো বিমান ইস্যু করবে। এতে তাদের পরিচিতি বাড়বে। নারিতায় যদি বিমান ফিফথ ফ্রিডম পায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়া যাওয়াটাও ভালো সিদ্ধান্ত হবে।’
কোড শেয়ার কী?
কোড শেয়ার হলো দুটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি জোট। এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে এ ধরনের চুক্তি থাকলে একজন যাত্রী কোনো একটি এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেই অন্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারেন।
বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স এ ধরনের চুক্তির ভিত্তিতে ফ্লাইট পরিচালনা করলেও বাংলাদেশে এটিই হবে প্রথম।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কোড শেয়ার হলো দুই এয়ারলাইন্স একটি উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে। যেই এয়ারলাইন্সের সাথে কোড শেয়ার হবে তারাও টিকিট বিক্রি করবে, বিমানও করবে। ফ্লাইটের যে কোড, তাতে বিমানের কোড বিজি-ও থাকবে। তাদের উড়োজাহাজ ব্যবহার হবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চুক্তিটা হবে এমন যে, আমি একটা সেক্টর ছেড়ে দিলাম এটা তুমি চালাও। এটা হয়তো আমি ডেভেলপ করতে পারিনি বা যাত্রী হচ্ছে না। বিভিন্ন কন্ডিশনে হতে পারে এ চুক্তিটা। পরে রেভিন্যু যেটা আসবে, সেটা দুই পক্ষই ভাগ করে নেবে। এটা কীভাবে ভাগ হবে, সেটা তারা চুক্তির মধ্য দিয়ে ঠিক করে নেবে।’
নারিতা হয়ে সিডনি-লস এঞ্জেলেসে চোখ
ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট শুরু হলে জাপান হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমে পাখা মেলতে চায় বিমান। এ জন্য জাপানের কয়েকটি এয়ারলাইন্সের সাথে কোড শেয়ার চুক্তি করার আলোচনা চলছে বলে জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
শফিউল আজিম জানান, শুধু নারিতা নয়, নারিতা থেকে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের সাথে এটাকে ইন্টারলাইন করতে চায় বিমান। এ ক্ষেত্রে অন্য এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে কোড শেয়ারের সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বিমানের চোখ এখন আমেরিকার ওয়েস্টকোস্ট ক্যালিফোর্নিয়া বা লস এঞ্জেলেসের দিকেও।
শফিউল আজিম বলেন, ‘এমনকি আমরা চেষ্টা করছি নারিতা থেকে সিডনিতে কোনোভাবে আমাদের ফ্লাইট অপারেশন করা যায় কিনা। জাপানের টিম ঘুরে গেছে কয়েকদিন আগে। আমরা এটা নিয়ে ডিটেইল আলোচনা করেছি। এটার প্রফিটিবিলিটি, যাত্রীদের প্রেফারেন্স ও কানেক্টিভিটি নিয়ে (আলোচনা হয়েছে)। আমরা বিমানের কানেক্টিভিটি ৩৬০ ডিগ্রি করতে চাই। শুধু পূর্ব-পশ্চিমে নয় বা শুধু উত্তর-দক্ষিণে নয়।’
বিমানের এ সিদ্ধান্তগুলোকে ইতিবাচক ভাবেই নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ জন্য যাত্রীদের কানেকটিং ফ্লাইটের সময়গুলো চিন্তাভাবনা করে সাজানোর পরামর্শ তাদের।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন যদি দুবাই-সিলেট কোড শেয়ার হয়, সেটা তো লস হবে। অনওয়ার্ড করতে হবে, যেখানে বিমান যাচ্ছে না বা বিমানের যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। কিন্তু এয়ারসার্ভিস এগ্রিমেন্ট আছে।’
তবে এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের আস্থা অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘ইউরোপে অনেক বাংলাদেশি থাকেন, তবে তারা বিমানের ওপর ট্রাস্ট রাখে না। এটা হলো সবচেয়ে বড় সমস্যা। কিন্তু এটা যদি করা যায়, নেটওয়ার্কটা যদি করে ফেলতে পারে, তাহলে যেটা হবে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গা থেকে সে যাত্রী দুবাইয়ে নিয়ে আসবে।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখনকার সমস্যা হলো-এখান থেকে দুবাইয়ে যাওয়ার সময় অনেক যাত্রী থাকে; কিন্তু আসার সময় ফ্লাইট ভরে না। তো এই নেটওয়ার্ক হলে যদি একবারে ৫০ জন যাত্রীও আসে, তাহলে ১০টা ফ্লাইটে ৫০০জন যাত্রী নিয়ে আসলাম।’
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যদি স্পেন থেকে দুবাই বা রোম থেকে দুবাই টিকিট ইস্যু করতে পারি, তাহলে (বিমান) বলে দেবে যে, দুবাই পর্যন্ত তুমি আনো, দুবাই থেকে আমি নিয়ে আসব। এ জন্য বিমানকে কানেক্টিভিটিটাও সেভাবেই তৈরি করতে হবে। একজন যাত্রীকে যাতে ফ্লাইট পেতে ৩ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে না হয়। বেশি অপেক্ষা করতে হলে এটা কাজ করবে না।’
বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট সেবা দিয়ে থাকে বিমান। এক সময় অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফ্লাইট চলাচল করলেও এখন সেগুলো বন্ধ। একই অবস্থা ইউরোপের ক্ষেত্রেও। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বিমানের ফ্লাইট আছে বর্তমানে শুধু লন্ডনে। আগে ম্যানচেস্টার, রোম, ফ্রাঙ্কফুর্টে ফ্লাইট থাকলেও সেগুলো এখন বন্ধ।
বিমানের বহরে লম্বা দূরত্বে উড়তে সক্ষম অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ থাকলেও রুট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলোর সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয়টি বোয়িং সেভেন এইট সেভেন ও চারটি বোয়িং ট্রিপল সেভেন মডেলের উড়োজাহাজ। এর প্রত্যেকটি টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম।
এর বাইরেও বিমান সম্প্রতি ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিকদের জন্যেও সুখবর আসছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে। তাদের ওপর অগ্রিম আয়কর আদায়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর।
দেশের কর ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি কর পরিকল্পনা বা ট্যাক্স রোডম্যাপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে চার লাখ টাকা। সে হিসেবে আগামী...
গতকালের আলোচিত এ ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে দুদল সমানে-সমান লড়লেও আক্রমণে ঢের এগিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু কাজের কাজ গোল আদায় করতে পারেননি রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যরা। উল্টো ম্যাচের ৮৬ মিনিটে...
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ের রাংটিয়া রেঞ্জের নকশী এলাকায় চোরাকারবারি ও বালুখেকোদের হামলায় দুই বনকর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
গণহত্যার দায়ে জামায়াত ইসালামী ও আওয়ামী লীগ একই সূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। গতকাল বুধবার বিকেলে চাটখিল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত...
ইউরোপের বাজার ধরতে গাল্ফের সাথে জোট করছে বিমান
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সাথে গাল্ফ এয়ারের, এই প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে কোড শেয়ারিং হচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হলে এখন যে রুটগুলোতে ফ্লাইট চালানোর অনুমোদন আছে কিন্তু ফ্লাইট নেই, সেই রুটগুলোতে নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবে বিমান।
বিমান বেশ কয়েক বছর ধরেই বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের সাথে কোড শেয়ার চুক্তি করার চেষ্টা করছে। এ তালিকায় জাপান এয়ার ও এয়ার কানাডার মতো এয়ারলাইন্সের নামও আছে। তবে সেগুলো এখনও সফলতার মুখ দেখেনি।
এরই মধ্যে কানাডার টরন্টোতে ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করেছে বিমান। জাপানের নারিতায় ফ্লাইট শুরুর কথা রয়েছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে।
গাল্ফ এয়ার হলো বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা। এয়ারলাইন্সটি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রায় ৫০টি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। এক সময় এটিই ছিল বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার ও ওমানের একমাত্র আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স।
গাল্ফ এয়ারের সাথে এই চুক্তি অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম। তিনি বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল হচ্ছে বা কক্সবাজারের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাদেশকে যদি আমরা হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, তাহলে বিমানকেই এগিয়ে আসতে হবে।’
শফিউল আজিম বলেন, ‘আমাদের সাথে গাল্ফ এয়ারের এই প্রথম কোড শেয়ারিং হচ্ছে। আমাদের ইউরোপে প্যাসেজ না থাকলেও এই কোড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমরা ইউরোপে আমাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে পারব। তাদের উড়োজাহাজে আমাদের বোর্ডিং পাস নিয়ে যাত্রীরা যেতে পারবেন।’
গাল্ফের সাথে কোড শেয়ার চুক্তি ইউরোপের বাজারে বিমানের অবস্থান শক্ত করতে সহায়ক হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা বিমানের জন্য খুব ভালো হবে। কারণ যে রুটে সে যাচ্ছে না বা যেতে পারছে না, কিন্তু অনুমোদন আছে, সেখানে গেলে যেটা হবে রুটটা আমাদের জন্য ডেভেলপ হবে।’
এটি চালু হলে আন্তর্জাতিক অন্য রুটগুলোতেও বিমান সুবিধা পাবে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘বিমানকে মানুষ চিনবে। কারণ টিকিট কাটতে গেলে বিমানের টিকিট কাটতে হবে। উড়োজাহাজ একটাই হবে কিন্তু টিকিট হয়তো বিমান ইস্যু করবে। এতে তাদের পরিচিতি বাড়বে। নারিতায় যদি বিমান ফিফথ ফ্রিডম পায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়া যাওয়াটাও ভালো সিদ্ধান্ত হবে।’
কোড শেয়ার কী?
কোড শেয়ার হলো দুটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি জোট। এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে এ ধরনের চুক্তি থাকলে একজন যাত্রী কোনো একটি এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেই অন্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারেন।
বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স এ ধরনের চুক্তির ভিত্তিতে ফ্লাইট পরিচালনা করলেও বাংলাদেশে এটিই হবে প্রথম।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কোড শেয়ার হলো দুই এয়ারলাইন্স একটি উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে। যেই এয়ারলাইন্সের সাথে কোড শেয়ার হবে তারাও টিকিট বিক্রি করবে, বিমানও করবে। ফ্লাইটের যে কোড, তাতে বিমানের কোড বিজি-ও থাকবে। তাদের উড়োজাহাজ ব্যবহার হবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চুক্তিটা হবে এমন যে, আমি একটা সেক্টর ছেড়ে দিলাম এটা তুমি চালাও। এটা হয়তো আমি ডেভেলপ করতে পারিনি বা যাত্রী হচ্ছে না। বিভিন্ন কন্ডিশনে হতে পারে এ চুক্তিটা। পরে রেভিন্যু যেটা আসবে, সেটা দুই পক্ষই ভাগ করে নেবে। এটা কীভাবে ভাগ হবে, সেটা তারা চুক্তির মধ্য দিয়ে ঠিক করে নেবে।’
নারিতা হয়ে সিডনি-লস এঞ্জেলেসে চোখ
ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট শুরু হলে জাপান হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমে পাখা মেলতে চায় বিমান। এ জন্য জাপানের কয়েকটি এয়ারলাইন্সের সাথে কোড শেয়ার চুক্তি করার আলোচনা চলছে বলে জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
শফিউল আজিম জানান, শুধু নারিতা নয়, নারিতা থেকে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের সাথে এটাকে ইন্টারলাইন করতে চায় বিমান। এ ক্ষেত্রে অন্য এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে কোড শেয়ারের সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বিমানের চোখ এখন আমেরিকার ওয়েস্টকোস্ট ক্যালিফোর্নিয়া বা লস এঞ্জেলেসের দিকেও।
শফিউল আজিম বলেন, ‘এমনকি আমরা চেষ্টা করছি নারিতা থেকে সিডনিতে কোনোভাবে আমাদের ফ্লাইট অপারেশন করা যায় কিনা। জাপানের টিম ঘুরে গেছে কয়েকদিন আগে। আমরা এটা নিয়ে ডিটেইল আলোচনা করেছি। এটার প্রফিটিবিলিটি, যাত্রীদের প্রেফারেন্স ও কানেক্টিভিটি নিয়ে (আলোচনা হয়েছে)। আমরা বিমানের কানেক্টিভিটি ৩৬০ ডিগ্রি করতে চাই। শুধু পূর্ব-পশ্চিমে নয় বা শুধু উত্তর-দক্ষিণে নয়।’
বিমানের এ সিদ্ধান্তগুলোকে ইতিবাচক ভাবেই নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ জন্য যাত্রীদের কানেকটিং ফ্লাইটের সময়গুলো চিন্তাভাবনা করে সাজানোর পরামর্শ তাদের।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন যদি দুবাই-সিলেট কোড শেয়ার হয়, সেটা তো লস হবে। অনওয়ার্ড করতে হবে, যেখানে বিমান যাচ্ছে না বা বিমানের যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। কিন্তু এয়ারসার্ভিস এগ্রিমেন্ট আছে।’
তবে এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের আস্থা অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘ইউরোপে অনেক বাংলাদেশি থাকেন, তবে তারা বিমানের ওপর ট্রাস্ট রাখে না। এটা হলো সবচেয়ে বড় সমস্যা। কিন্তু এটা যদি করা যায়, নেটওয়ার্কটা যদি করে ফেলতে পারে, তাহলে যেটা হবে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গা থেকে সে যাত্রী দুবাইয়ে নিয়ে আসবে।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখনকার সমস্যা হলো-এখান থেকে দুবাইয়ে যাওয়ার সময় অনেক যাত্রী থাকে; কিন্তু আসার সময় ফ্লাইট ভরে না। তো এই নেটওয়ার্ক হলে যদি একবারে ৫০ জন যাত্রীও আসে, তাহলে ১০টা ফ্লাইটে ৫০০জন যাত্রী নিয়ে আসলাম।’
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যদি স্পেন থেকে দুবাই বা রোম থেকে দুবাই টিকিট ইস্যু করতে পারি, তাহলে (বিমান) বলে দেবে যে, দুবাই পর্যন্ত তুমি আনো, দুবাই থেকে আমি নিয়ে আসব। এ জন্য বিমানকে কানেক্টিভিটিটাও সেভাবেই তৈরি করতে হবে। একজন যাত্রীকে যাতে ফ্লাইট পেতে ৩ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে না হয়। বেশি অপেক্ষা করতে হলে এটা কাজ করবে না।’
বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট সেবা দিয়ে থাকে বিমান। এক সময় অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফ্লাইট চলাচল করলেও এখন সেগুলো বন্ধ। একই অবস্থা ইউরোপের ক্ষেত্রেও। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বিমানের ফ্লাইট আছে বর্তমানে শুধু লন্ডনে। আগে ম্যানচেস্টার, রোম, ফ্রাঙ্কফুর্টে ফ্লাইট থাকলেও সেগুলো এখন বন্ধ।
বিমানের বহরে লম্বা দূরত্বে উড়তে সক্ষম অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ থাকলেও রুট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলোর সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয়টি বোয়িং সেভেন এইট সেভেন ও চারটি বোয়িং ট্রিপল সেভেন মডেলের উড়োজাহাজ। এর প্রত্যেকটি টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম।
এর বাইরেও বিমান সম্প্রতি ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।