বিদায়ী সপ্তাহ শেয়ারবাজারে বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকেও বড় পতন হয়েছে। এতে গেল সপ্তাহে শেয়ারবাজার সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারবাজারে মোট ৫ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৪ দিনই সূচক কমেছে ঢাকার শেয়ারবাজারে। এতে পুরো সপ্তাহজুড়েই নেতিবাচক ছিলো বাজার। সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচক ১৪৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২১৯ পয়েন্টে। এছাড়া কমেছে অন্য দুটি সূচকও।
সূচকে বড় পতনের মধ্যেও বাজারে লেনদেনের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৩ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিলো ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, লেনদেন বেড়েছে ৬৮৫ কোটি টাকা। প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয়েছে ৬৬৮ কোটি টাকা।
লেনদেন বাড়লেও গত সপ্তাহে বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে শেয়ারবাজারে। সপ্তাহ শেষে ডিএসই'র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ৬ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
বিদায়ী সপ্তাহে হাতবদলে অংশ নেয়া ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭২টি শেয়ারের। অন্যদিকে, কমেছে ২০৬টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।
সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে একমি পেস্টিসাইড। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন ও সামিট এলায়েন্স পোর্ট।
শতাংশের হিসেবে দর বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে আছে আইএফআইসি ফাস্ট মিচুয়্যাল ফান্ড, যাদের শেয়ারদর বেড়েছে ৫১ শতাংশের বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে হামিদ ফেব্রিক্স এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে বিডি অটোকারস।
অন্যদিকে, বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক ২১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ১৮৮ কোটি টাকা।