বিদেশে উচ্চশিক্ষা

ইউরোপের যে দেশটিতে মিলবে কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ লিথুয়ানিয়ায় মিলবে কম খরচে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, নিরাপদ ও আধুনিক জীবনযাপনের পরিবেশ, সবকিছুই নিশ্চিত করে দেশটি। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সেখানে পড়তে জানতে হবে না সেই দেশের ভাষা। ইংরেজি মাধ্যমেই পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে ইউরোপের এই দেশটিতে। অর্থাৎ ভাষার বাধা ছাড়াই ইউরোপীয় শিক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব।

শেনজেন ভিসার সুবিধা

শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো শেনজেন ভিসা। এই ভিসায় লিথুয়ানিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি ইউরোপের ২৬টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ মিলবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা চাইলে এই দেশগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন, যা তাঁদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন

লিথুয়ানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে ব্যাচেলরস ও মাস্টার্স, দুই স্তরেই আবেদন করতে পারবেন। এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আইইএলটিএস ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করা যায়। অনার্সের জন্য আবেদনকারীরা শুধুমাত্র একটি ইংরেজি টেস্ট দিয়েই ভর্তির সুযোগ পাবেন। আর মাস্টার্স হলে তো কথাই নেই। শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এমওআই (মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন) সার্টিফিকেট দেখিয়ে আবেদন করতে পারবেন।

টিউশন ফি কত

ব্যাচেলর প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে প্রায় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার ৩০০ ইউরো পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে এ খরচ কমবেশি হয়। আর মাস্টার্স প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে বছরে ২ হাজার ৩০০ থেকে ৮ হাজার ইউরো পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিশেষ কিছু কোর্স বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ খরচ আরও বেশি হতে পারে। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্থাপত্য বা ডিজাইনের মতো বিষয়ের ফি সাধারণ বিষয়গুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি হয়।

চাকরির সুযোগ

লিথুয়ানিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে ‘পোস্ট–স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট’ দেয়। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশটিতে চাকরি খুঁজতে পারেন। পড়াশোনা শেষে এক বছর পর্যন্ত লিথুয়ানিয়ায় থেকে চাকরি খোঁজার সুযোগ থাকে। পড়াশোনার সময়ই শিক্ষার্থীরা প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত পার্ট–টাইম কাজ করতে পারেন। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশেও (শেনজেন অঞ্চলে) চাকরির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্থায়ী হওয়ার সুযোগ

চাকরি পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ওয়ার্ক ভিসা বা অস্থায়ী আবাসনের অনুমতি (টেম্পোরারি রেসিডেন্সি পারমিট)-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাঁরা সেখানে থেকে কাজ করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে স্থায়ী হওয়ার সুযোগও মিলবে।