ভারতে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আবারও আবেদন শুরু হয়েছে ভারতের জনপ্রিয় আইসিসিআর বৃত্তির জন্য। এই বৃত্তি দেয় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর শতাধিক শিক্ষার্থী এই বৃত্তির মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারও স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে আবেদন করা যাবে।
যেসব বিষয়ে আবেদন করা যাবে
মেডিসিন, প্যারামেডিকেল (যেমন নার্সিং, ফিজিওথেরাপি, অবেদনবিদ্যা), ফ্যাশন ও আইন সংক্রান্ত কোর্স ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে আবেদন করা যাবে। ভর্তির পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকার সুযোগ পাবেন।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। পিএইচডির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ বছর।
আইইএলটিএস বা টোয়েফল বাধ্যতামূলক নয়
ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আবেদনকারীকে ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখতে হবে। চাইলে টোয়েফল বা আইইএলটিএসের স্কোর জমা দেওয়া যাবে, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের নম্বরপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হবে। কাগজপত্র ইংরেজিতে না থাকলে অনুবাদ করে জমা দিতে হবে। অনুবাদ ছাড়া কোনো নথি গ্রহণ করা হবে না।
আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্তদের বছরে ন্যূনতম ৫ লাখ ভারতীয় রুপির মেডিকেল বিমা করা বাধ্যতামূলক।
আসনসংখ্যা ও বিশেষ স্কিম
প্রতিবছর প্রায় ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পান। এর মধ্যে স্নাতকে ১৪০, স্নাতকোত্তরে ৪০ এবং পিএইচডিতে ২০ জন সুযোগ পান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ‘সুবর্ণজয়ন্তী স্কলারশিপ’ নামে একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়। এ ছাড়া ‘লতা মঙ্গেশকর ডান্স অ্যান্ড মিউজিক স্কলারশিপ’–এর আওতায় আরও ৫০০ আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই স্কিমগুলোর মাধ্যমেও স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডিতে আবেদন করা যাবে।
বৃত্তিতে যেসব সুবিধা মিলবে
আবেদন করতে লাগবে না কোনো ফি। দিতে হবে না টিউশন ফিও। আর মাসিক স্টাইপেন্ড হিসেবে মিলবে স্নাতকে ১৮ হাজার রুপি, স্নাতকোত্তরে ২০ হাজার রুপি এবং পিএইচডিতে ২২ হাজার রুপি। আবাসন খরচ বাবদ মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫০০ রুপি। এছাড়াও মিলবে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুবিধা।
উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি হতে পারে বড় সুযোগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।