সারা দেশে ছয় মাসে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২৮ জন শিক্ষকের জাল সনদ চিহ্নিত করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ৯০ কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণও পেয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ জমা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে। ধাপে ধাপে সেগুলোর তদন্ত হয়।
গত ছয় মাসে ৯৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়মের তদন্ত করেছে অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৯০ কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণও মিলেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি বেদখল হয়ে আছে। এসব জমি উদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক এ এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ছয় মাসে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২৮ জন শিক্ষকের জাল সনদ চিহ্নিত করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ৯০ কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণও পেয়েছে। যারা জাল সনদকারী তাঁদেরকে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রম করেছে সেগুলোর ভ্যাট দেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
তদন্তে ১২৮ জন শিক্ষকের জাল সনদে চাকরি নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে শতাধিক শিক্ষক অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ নিয়েছে। এসব শিক্ষকের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক এ এম সহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘যারা সনদ দিয়েছেন তারাই সার্টিফাই করেছেন এগুলো জাল। এ ক্ষেত্রে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই।’
শিক্ষা গবেষকেরা বলছেন, জাল সনদ নিয়ে শিক্ষক হওয়াটা গর্হিত অপরাধ। এটি লজ্জাজনক। যারা চাকরি নিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকেরা যদি অসৎ কাজ করেন, তাহলে সৎ মানুষ কারা তৈরি করবেন। আমাদের উচিত ছিল দক্ষ, যোগ্য ও নৈতিকভাবে উচ্চমানের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।’