সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের পথে পা বাড়াচ্ছেন এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। স্বপ্ন একটাই- বিশ্বমানের শিক্ষা, নতুন অভিজ্ঞতা আর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু কেন প্রতিবছর বাড়ছে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ?
উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রা শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে ঢাকার গুলশান শুটিং ক্লাবে আয়োজন করা হয় ‘প্রি-ডিপারচার ২০২৬’। ইউকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান এএইচজেড আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন চলতি বছরের সেপ্টেম্বর সেশনে যুক্তরাজ্যে যেতে প্রস্তুত এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, তাদের পরিবার এবং শিক্ষাবিদরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন একেএম গোলাম কিবরিয়া, চীফ কমার্সিয়াল অফিসার জহিরুল ইসলাম, এএইচজেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়াহিদ জামান, কোর্স হান্টারের রিজিওনাল মার্কেটিং ম্যানেজার, মাহফুজ এম কুশল এবং এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার আহসান মাহমুদ। এছাড়াও এএইচজেডের গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা ও মিরপুর শাখার অপারেশন ম্যানেজাররা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্য এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণার সুযোগ, আন্তর্জাতিক পরিবেশ এবং বৈশ্বিক ক্যারিয়ারের সম্ভাবনার কারণে প্রতিবছর দেশটিতে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ছে।
এএইচজেডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশকে বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন থেকে শুরু করে আবেদন প্রক্রিয়া, ভিসা প্রস্তুতি এবং যাত্রার আগের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, সব ক্ষেত্রেই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পেয়েছেন মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ। কেউ পেয়েছেন ৩০ শতাংশ, আবার কেউ পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়।
অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা জানান, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিকল্পনার কারণে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করা সহজ হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নতুন যাত্রাকে আরও সহজ করতে অনুষ্ঠানে ছিল বিভিন্ন সেশন। যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর করণীয়, বিমানবন্দরের নিয়মকানুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ এবং নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
শুধু তথ্য আর পরামর্শ নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল নানা আয়োজন। কুইজ, নেটওয়ার্কিং সেশন এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৈরি করা হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। এই আয়োজনে বিশেষ পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল টার্কিশ এয়ারলাইন্স।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী একজন শিক্ষার্থীকে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্য যাতায়াতের জন্য বিনামূল্যে এয়ার টিকিট দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা এখন শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক সুযোগের দরজা খুলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে নতুন দেশে যাওয়ার আগে সঠিক প্রস্তুতি, তথ্য এবং পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছর এএইচজেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সেই প্রস্তুতিতে সহায়তা করছে। সেপ্টেম্বরের এই যাত্রায় এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। যেখানে বাংলাদেশের তরুণরা পা রাখছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে।
আর এই প্রবাহই বলছে, বিশ্বমানের শিক্ষার সন্ধানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক যাত্রা এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।