এবার এসএসসিতে ৯ শিক্ষা বোর্ডের ৩০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি। বেশিরভাগই গ্রামাঞ্চলের এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, অনিয়মিত উপস্থিতি ও মেধাবীদের অন্যত্র চলে যাওয়ায় ফল খারাপ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। এবার প্রথমবারের মত বিদ্যালয়টি থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শতভাগ অকৃতকার্য হবার তালিকায় থাকা ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৪ জন ও পূর্ব কুমোরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমে উপস্থিতির হার কম ছিলো। অন্যদিকে, শিক্ষক সংকট ও মেধাবীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় ফল খারাপ হয়েছে।
কুড়িগ্রামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বলেন, এবারই প্রথম পরীক্ষা দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি।
অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, শিক্ষকের ঘাটতি ছিল। এ কারণেই আমাদের রেজাল্টটা খারাপ হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে আরো ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল বিপর্যয় হয়েছে। ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখবে বোর্ড।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে দেখছি একজন পরীক্ষার্থী, দুজন পরীক্ষার্থী, চারজন পরীক্ষার্থী। যে প্রতিষ্ঠানগুলোয় এত কম সংখ্যক পরীক্ষার্থী থাকে, ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে চলতে পারছে? এ বিষয়ে আমরা কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করব।
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৫১৫টি স্কুল থেকে পরীক্ষার্থীরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে একজনও পাস করেনি এমন স্কুলের সংখ্যা ৫টি।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. আব্দুস সালাম বলেন, কী কারণে তারা এরকম খারাপ রেজাল্ট করল, সেই কারণগুলো তাদের কাছ থেকে জানব। যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারে তাহলে একরকম। আর যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।
গত বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে কোনো বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল না থাকলেও এবার পাঁচটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি। কারণ খতিয়ে দেখে এসব বিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



