‘জওয়ান’-এ শাহরুখের আধা অভিনয় করে দিয়েছেন প্রশান্ত!

মুক্তির প্রথম দু’দিনেই ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে ‘জওয়ান’। এ সিনেমায় দু’জন শাহরুখ! অর্থাৎ দ্বৈত চরিত্রে রয়েছেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। হিন্দি কিংবা হলিউডের চলচ্চিত্রে, বিশেষ করে অ্যাকশন সিনেমায় ‘বডি ডাবল’ ব্যবহার করা খুবই প্রচলিত এক বিষয়। ‘জওয়ান’ ছবিতেও শাহরুখের একজন বডি ডাবল রয়েছেন। তিনি প্রশান্ত ওয়ালদে। শুধু এ সিনেমাতেই নয়, তিনি বডি ডাবলের কাজ করছেন দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে!

সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামার এক সাক্ষাৎকারে ‘জওয়ান’ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন শাহরুখের নকল প্রশান্ত। আলাপের শুরুতেই তিনি ‘ন্যাড়া মাথা’র সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বললেন, ‘জীবনে প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রস্থেটিক মেকআপ নিয়েছি। এই লুকে প্রায় মাসব্যাপি শুটিং করতে হয়েছে আমাদের। প্রস্থেটিক মেকআপে কেমিক্যাল ব্যবহার হয়, এই কারণে ফোসকা পড়ে যাচ্ছিল আমার। মনে হতো চামড়া পুড়ে যাচ্ছে।’

এই লুক দেখে শাহরুখ কী বলতেন, এমন প্রশ্নে প্রশান্তের ভাষ্য, ‘‘এটা এমন এক লুক, যা নজর কেড়ে কেড়েছে প্রতিটি মানুষের। প্রায় ২-৩ ঘণ্টা লেগে যেত এই মেকআপ নিতে। প্রস্থেটিক মেকআপ দেখে শাহরুখ ভাই মন্তব্য করতেন, ‘আরে! তোকে তো দারুণ লাগছে!’’’ প্রশান্ত আরও বললেন, ‘অনেক বেশি ডিটেইল ছিল সবকিছুতে। ব্যান্ডেজের ভাঁজ আগের মতোই আছে কি না, এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়ে নিতেন। এমনকি লুকের ক্ষেত্রেও প্রচুর যত্ন নিতে হয়েছে। অ্যাটলি স্যার সব সময় আমার দিকে নজর রাখতেন।’

‘জওয়ান’ লুকে প্রশান্ত ওয়ালদে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়াদীর্ঘ ১৭ বছরে অনেক সিনেমাতেই কাজ করেছেন প্রশান্ত। তবে ‘জওয়ান’-এর অভিজ্ঞতা তার কাজে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। বললেন, ‘১৭ বছরে অনেক সিনেমা-বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি, কিন্তু ‘জওয়ান’-এর অভিজ্ঞতা অন্যরকম। অ্যাটলি স্যারের শিফট ছিল ১২ ঘণ্টার, তবে আমাদের শেষ হতে ১৪ ঘণ্টা লেগে যেত। কখনও ১২ ঘণ্টায় শেষ হয়েছে কিনা এমনটা বলতে পারছি না।’

‘জওয়ান’ ছবির হাসপাতালের বিস্ফোরন দৃশ্যের শুটিং হয়েছে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রশান্ত বললেন, ‘‘হাসপাতালে যে বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে, তার দৃশ্যধারণটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মাত্র ১৮ সেকেন্ডে আমরা ২৮টি বিস্ফোরন ঘটিয়েছি। অনেকগুলো ক্যামেরা সেটআপ ছিল। প্রস্তুতি ছিল এক শটে যেন দৃশ্যটা নেওয়া যায়। সবাইকে যত সম্ভব দূরে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার কথা ছিল, ‘আমাকে তো কেউ খেয়াল রাখ!’’’

‘জওয়ান’ সিনেমায় এমন একটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে শাহরুখ ঠিক তারই মতো দেখতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে আছেন। এই দৃশ্যের শুটিং চলাকালে মজার একটি ঘটনা ঘটে। শাহরুখ খান ছিলেন তরুণ চরিত্রটির ভূমিকায়, আর বৃদ্ধ শাহরুখের রূপে ছিলেন প্রশান্ত। যখন শাহরুখ বুড়োর চরিত্রে সাজলেন, প্রশান্তকে হয়ে যেতে হলো তরুণ শাহরুখ! যাতে ক্যামেরা দিয়ে শুধুমাত্র তার ক্লোজআপ শট নেওয়া যায়, সে জন্যই এই বন্দোবস্ত। এই ছবিতে শাহরুখের লুক একেবারেই আলাদা, যার কারণে প্রতিদিন প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল প্রশান্তকে। শেষে তিনি মুখ খুললেন ‘জওয়ান’-এর ক্লাইমেক্স নিয়ে।

দৃশ্যটিতে ছিল শাহরুখের দুই চরিত্র ‘আজাদ’ ও ‘বিক্রম রাঠোর’। তিনি বললেন, ‘কখনো শাহরুখ ভাই থাকতেন আজাদ চরিত্রে, আবার কখনো বিক্রমে। যখন তিনি বিক্রমের ভূমিকায় থাকতেন, তখন আমি আজাদ চরিত্রে পারফর্ম করতাম।’

সুপারস্টার শাহরুখ খান ও ব্লকবাস্টার পরিচালক অ্যাটলি প্রসঙ্গে প্রশান্তের ভাষ্য, ‘মারাত্মক ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করেছেন অ্যাটলি স্যার, সেটার ফলাফল এখন দেখতেই পাচ্ছি। শাহরুখ ভাইও তার মনপ্রাণ সপে দিয়েছিলেন সিনেমাটিতে। শুটিং চলাকালে তিনি বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। আমাদের মন বলছিল, সিনেমাটি আলোড়ন তৈরি করবে এবং সেটাই হয়েছে।’