করোনার পূর্ব ও পরবর্তী সময় খুব একটা ভালো কাটেনি বলিউড কিং শাহরুখ খানের। অনেকেই তাঁর ক্যারিয়ার শেষ দেখে ফেলেছিলেন! এমনকি সন্তান আরিয়ানের জন্য তাঁকে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে আদালত পাড়ায়।
তারপরও নিরব ছিলেন শাহরুখ। এরপর গত বছর ফের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ছিল এই অভিনেতার। তিনটি ছবি দিয়েছেন ব্লকব্লাস্টার। এমন একটা সময়েরই যেন অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি একটি পুরস্কার গ্রহণ করে মুখ খুললেন শাহরুখ। বক্তৃতায় তাঁর জীবনের কিছু অন্ধকার সময়ের কথা উল্লেখ করেন।
বলেন, ‘গত ৪-৫ বছরের যাত্রাটা আমাদের পরিবারের জন্য বেশ রুক্ষ ছিল। আমি জানি, কোভিডের কারণে নিশ্চয়ই আরও অনেকের ক্ষেত্রেও তাই। আমার সব ছবি ফ্লপ করে। অনেকেই আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার শ্রদ্ধার্ঘ্যও লিখে ফেলেছিল!’
বলতে বলতে শাহরুখ এই সিনেমা বিশারদদের রসিকতা করে ‘মূর্খ’ বলেও সম্বোধন করেন। তারপর নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ তোলেন।
শাহরুখ বলেন, ‘সেসময়ে আমার বেশিরভাগ সিনেমা ফ্লপ করেছে। মূর্খ সিনেবিশেষজ্ঞরা তো আমার কফিনে পেরেক পোঁতার খবরও লেখা শুরু করেছিল। ব্যক্তিগত স্তরে, কিছুটা বিরক্তিকর এবং অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছিল, যা কিনা আমাকে বড় শিক্ষা দিয়ে গেছে। আমাকে শিখিয়েছে কঠিন পরিস্থিতিতেও কীভাবে শান্ত থাকতে হয়। মুখ বন্ধ রেখে, নিজের মর্যাদা বজায় রেখে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হয়।’
এরপরই বাদশার সংযোজন, ‘যখনই আপনি ভাববেন, জীবন একদম ঠিক পথে চলছে, ঠিক তখনই দেখবেন, আচমকাই কোথা থেকে একটা ধাক্কা চলে এসেছে। কিন্তু এই সময়েই আপনাকে সৎ থাকতে হবে। জীবনের প্রতি আশাবাদী হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবনে কিছু অপ্রীতিকর এবং বিরক্তিকর ঘটনা ঘটেছে বললেও কম বলা হয়। কিন্তু তাতে আমার একটা শিক্ষা হয়েছে। চুপচাপ থাকো, একদম নিস্তব্ধে কাজ করো, নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে চুপচাপ পরিশ্রম করে যাও।'
সরাসরি না বললেও তিনি যে পুত্র আরিয়ানের গ্রেফতারের কথাই বললেন, তা স্পষ্ট। কর্ডেলিয়া ক্রুজ কাণ্ডের যাবতীয় অভিযোগ অবশ্য পরে খারিজ করে দেয় আদালত এবং আরিয়ান সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন। কিন্তু সেসময় প্রায় এক মাস জেলে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। অনেক দরজায় কড়া নেড়েও ছেলের জামিন করাতে পারেননি শাহরুখ।
বক্তৃতা শেষ করেন নিজের ছবি ‘ওম শান্তি ওম’-এর একটি সংলাপ দিয়ে। শাহরুখের মন্তব্য, ‘আমাকে একজন বলেছিলেন একবার, জীবনটাও সিনেমার মতো। শেষমেশ সব ঠিক হয়ে যায়। আর যদি তা না হয়, তাহলে সেটা সমাপ্তিই নয়। পিকচার অভি বাকি হ্যায়…। আর আমি তাঁর সেই কথাটা অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করি। কারণ আমার বিশ্বাস, ভালো করলে ভালো হয়।’