প্যারিস ফ্যাশন উইকে আবারও প্রমাণ হলো, বড় পর্দায় দুই বছরের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলেও ভক্তদের ভালোবাসা একচুলও কমেনি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের প্রতি।
লরিয়াল প্যারিসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে তিনি হাঁটলেন আন্তর্জাতিক আয়োজনে—কিন্তু আলোচনায় আসার কারণ শুধু র্যাম্প নয়, আরও তিনটি ঘটনা।
সাবেক বিশ্ব সুন্দরী ঐশ্বরিয়া এদিন নজর কাড়েন কালো হিরাখচিত কাস্টম শেরওয়ানিতে। পোশাকটির ডিজাইন করেছেন ভারতের খ্যাতনামা মণীষ মালহোত্রা। তাঁর ভাষায়, ‘এটা এক অনন্য ক্যানভাস। ১০ ইঞ্চি লম্বা ডায়মন্ড-জড়ানো হাতের নকশা আধুনিক রাজকীয়তার প্রতীক। শক্তি ও সংবেদনশীলতা মিলিয়ে একেবারে ব্যতিক্রমী।’
ঐশ্বরিয়ার সিগনেচার রুবি লিপস, খোলা চুল আর আত্মবিশ্বাসী হাসি পুরো পরিবেশে অন্য মাত্রা যোগ করে। দর্শকরা হাততালিতে ভাসান, আর তিনি হাত নেড়ে ফিরিয়ে দেন সেই ভালোবাসা। তাঁর কয়েক মিনিটের র্যাম্পওয়াক সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
তবে শুধু পোশাক নয়, আলোচনায় আসে তাঁর মানবিক দিকও। শো শুরুর আগে হোটেলের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন এক ভক্ত। ছবি তুলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ঐশ্বরিয়া তারকা-দূরত্ব ভেঙে এগিয়ে যান, চোখের পানি মুছে দেন, জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন, ‘জোরে শ্বাস নিন, হাসুন।’ মুহূর্তেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।
ব্যাক স্টেজে আরও একটি ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কুইয়ার ইনফ্লুয়েন্সার আদিত্য মদিরাজু ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। পরে লিখেন, ‘আমাদের হৃদয়ের রানি। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে দেখা করে স্বপ্ন সত্যি হলো।’
বিশ্ব তারকাদের সঙ্গেও সেদিন ছিলেন ঐশ্বরিয়া। ব্রিটিশ সুপার মডেল কারা ডেলেভিন দৌড়ে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। অভিনেত্রী সিমোন অ্যাশলির সঙ্গেও ছবি তুলেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে প্যারিস ফ্যাশন উইকে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের উপস্থিতি ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা—ফ্যাশনের ঝলকানি, মানবিকতার ছোঁয়া আর বিশ্ব তারকাদের সঙ্গে স্নিগ্ধ মুহূর্ত মিলিয়ে।