সালমান যেভাবে ২৯০০ কোটির মালিক

বলিউডে ‘ব্যাচেলর’ তকমা আজও তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত। তিনি সুপারস্টার সালমান খান। তিন দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনও ‘প্রেম’, কখনও ‘রাধে’, আবার কখনও ‘টাইগার’ হয়ে বাজিমাত করেছেন বক্স অফিসে। শুধু জনপ্রিয়তায় নয়, সম্পদের নিরিখেও এই তারকা রয়েছেন আকাশচুম্বী উচ্চতায়। 

ফোর্বস সাময়িকীর তথ্য মতে, বর্তমানে তিনি ২৯০০ কোটি রুপির মালিক। প্রতি মাসে সালমানের আয় প্রায় ১৬ কোটি রুপি। যদিও মুম্বাইয়ে বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের যে ২ কামরার ফ্ল্যাটে তিনি থাকেন, তা নিতান্তই সাদামাটা। অনুরাগীদের অবশ্য আগ্রহের কমতি নেই যে তাঁর এই সাম্রাজ্যে কী কী রয়েছে?

গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টেই বেড়ে ওঠা সালমানের। চার ভাই-বোন, দুই স্ত্রীকে নিয়ে ছোট্ট ফ্ল্যাটে থাকতে অসুবিধা হওয়ায় বহু বছর আগেই একই অ্যাপার্টমেন্টে নিচের ফ্লোরে আরও একটি ফ্ল্যাট কেনেন অভিনেতার বাবা সেলিম খান। সেখানেই একটা ঘরে থাকত দুই মেয়ে অলভিরা ও অর্পিতা, অন্যদিকে তিন ভাই সালমান, সোহেল ও আরবাজ। বিয়ের পর আলাদা সংসার পাতেন সোহেল-আরবাজ। তবে গ্যালাক্সি ছাড়েননি সালমান। তাঁর বেডরুমে একটি খাট ও বসার চেয়ার ছাড়া বিশেষ কোনো আসবাবপত্র নেই, সেই কথা করণ জোহরের শো-তে তিনি নিজের মুখেই জানিয়েছিলেন।

টাইগার-৩ লুকে সালমান। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিকমাধ্যমে কখনও কখনও ভাইরালও হয়েছে সালমানের বাড়ির অন্দরমহল। দোতলা সেই ভবনের নিচতলায় অভিনেতা এবং উপরের তলায় তাঁর বাবা-মা থাকেন। বর্তমানে এই বাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির মুখে নিরাপত্তার খাতিরে সালমানের এই বাসভবনে বসানো হয়েছে বিশেষ বুলেটপ্রুফ কাঁচ।

মাঝেমধ্যে মুম্বাইয়ের কোলাহল ছেড়ে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে সালমান ছুটে যান পানভেলের খামারবাড়িতে। বোন অর্পিতার নামে যার নাম রেখেছেন ‘অর্পিতা ফার্মস’। ১৫০ একর জমির ওপর নির্মিত এই ফার্মহাউসে রয়েছে সুইমিং পুল, পশুখামার ও বিস্তীর্ণ চাষের জমি। অবসরে এখানে নিজেই কৃষিকাজ করেন ভাইজান। এই খামারবাড়ির মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এ ছাড়া কার্টার রোড, ওরলি এবং সুদূর দুবাইতেও তাঁর বিলাসবহুল আবাসন রয়েছে।

এদিকে, সিনেমাপ্রতি সালমান খান এখন ১০০ থেকে ১৫০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। এর বাইরে টেলিভিশন রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’ সঞ্চালনা করে প্রতি বছর আয় করেন মোটা অঙ্কের টাকা। নামী সব ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন থেকেও আসে বড় অংকের সম্মানী। 

তবে কোনো রকম বিলাসিতায় বিশ্বাসী নন সালমান। এমনকি নিজের বিলাসিতাতেও তিনি মগ্ন নন! আয়ের একটি বিশাল অংশ তিনি ব্যয় করেন নিজের প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’র মাধ্যমে। দুস্থ মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য কাজ করে সালমানের এই সংস্থা।