২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ভারতীয় সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির পর থেকেই একটি জনপ্রিয় ধারণা চালু আছে—সিনেমার প্রধান চরিত্র র্যাঞ্চো বা ফুংসুখ ওয়াংড়ু আসলে বিখ্যাত প্রকৌশলী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ধারণা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা আমির খান নিজেই।
বর্তমানে প্রশ্নফাঁসের তদন্ত ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন পালন করছেন সোনম ওয়াংচুক। ঠিক এই সময়েই লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রসঙ্গটি সামনে আসে। আমির বলেন, সিনেমাটি বানানোর সময় তিনি নিজে কিংবা চিত্রনাট্য রচয়িতাদের কেউই সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
উল্লেখ্য, ওয়াংচুকের চলমান অনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সিনেমাটির আরেক অভিনেতা ওমি বৈদ্য (চতুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন) সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন র্যাঞ্চো চরিত্রটি সরাসরি ওয়াংচুকের জীবনী থেকেই নেওয়া।
এই দাবি প্রসঙ্গে আমির স্পষ্ট করে বলেন, চতুরের এই দাবিটি ভুল। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ১৭তম লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় দর্শকসারি থেকে একজন সোনম ওয়াংচুকের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, থ্রি ইডিয়টস সিনেমাটি তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং তিনি জানতেন এই গল্প সোনম ওয়াংচুকের কাজ থেকেই নেওয়া।
জবাবে আমির বলেন, এটি একটি ভুল ধারণা এবং সিনেমা বানানোর সময় সোনম সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণাই ছিল না। তিনি আরও জানান, মুক্তির পর যখন সোনমের প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে, তখন সোনম নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।
বেশ কয়েক বছর আগে এই সিনেমা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। অনেকে ফুংসুখ ওয়াংড়ুর সঙ্গে তাঁর জীবনের মিল খুঁজে পেলেও সোনম জানান, সিনেমা সংশ্লিষ্ট কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা কোনো অনুমতিও নেননি। সিনেমাটি মুক্তির আগে ২০০৮ সালে এক অনুষ্ঠানে আমির খানের সঙ্গে তাঁর প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল।
সেই সাক্ষাতে ওয়াংচুক আমিরকে সিয়াচেন সীমান্তে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ শিক্ষাখাতে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে একটি সিনেমা বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানান। ওয়াংচুকের ভাষ্য অনুযায়ী, আমির সেদিন বেশ মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনেছিলেন।
এর কিছুদিন পরই ওয়াংচুক ফ্রান্সে চলে যান, আর পরের বছর মুক্তি পায় থ্রি ইডিয়টস। সিনেমা মুক্তির পর অনেকে র্যাঞ্চোর গল্পের সঙ্গে তাঁর জীবনের মিল খুঁজে বের করেন। তবে সোনম জানান, তিনি সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আপত্তি তোলেননি, কারণ তাতে মনে হতে পারত তিনি নির্মাতাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করছেন। সোনম আরও জানান, ক্ষতিপূরণ দাবির আইনি মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর তিনি নির্মাতাদের একটি চিঠি লিখে সিনেমা তৈরির আগে আমিরের সঙ্গে তাঁর আলাপের বিষয়টি জানান। তবে সেই চিঠির কোনো জবাব তাঁরা দেননি, আর নিজেও কোনো জবাবের প্রত্যাশা করেন না বলে জানান ওয়াংচুক।