‘আমি প্রতারিত হয়েছিলাম’—র্যাপার বাদশাহর সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার পর অবশেষে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী ঈশা রিখী। ‘বিগ বস ২০’-এর সম্প্রচারের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পর্ক ভাঙার কঠিন সময়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঈশার দাবি, সম্পর্কের শুরু থেকেই ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। ভালোবাসার মানুষ ও সম্পর্ক—দুটিই আগলে রাখার চেষ্টা করেছেন। কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বিষয়কে প্রকাশ্যে এনে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করতে চাননি।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর। ঈশা নিজে ছবিগুলো পোস্ট না করলেও সেগুলো প্রকাশ করেন তার মা পুনম রিখী। এরপরই বাদশাহ ও ঈশার সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য বিয়ে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি নিয়ে মায়ের সঙ্গে একাধিকবার ঝগড়াও হয়েছিল বলে জানান ঈশা। তবে একটা সময় গিয়ে অভিনেত্রী বুঝতে পারেন, যা ঘটে গেছে, সেটি আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই।
এর আগে মার্চ থেকেই বাদশাহ ও ঈশার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। মায়ের প্রকাশ করা বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবির পর সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবরও প্রকাশ্যে আসে।
তবে সম্পর্ক ভাঙার পুরো অভিজ্ঞতাই যে তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল, তা অকপটে জানিয়েছেন ঈশা। এমনকি পরিস্থিতির মধ্যে বারবার নিজেকেই প্রশ্ন করেছেন—‘আমি কী ভুল করেছিলাম?’
অভিনেত্রীর ভাষ্য, সে সময় তিনি ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন। কারণ, তার মা এক ধরনের কথা বলছিলেন, অন্যদিকে বাদশাহর বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
ঈশা বলেন, ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর তাদের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়েছিল। সে সময় বাদশাহ তাকে অন্য একটি ছবি দেখিয়েছিলেন, যেটিকে ঈশা আসল ছবি মনে করেননি। সেই পরিস্থিতিতে নিজের ওপরই প্রশ্ন উঠেছিল তার—কীভাবে তিনি এতটা বোকা হতে পারেন!
ঈশার কথায়, ‘ওটা আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল।’ এরপর তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—তিনি কি নিজেকে প্রতারিত মনে করেন?
জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ‘প্রতারিত? হ্যাঁ, আমি প্রতারিত হয়েছিলাম।’
এখনও পর্যন্ত ঈশার এই বক্তব্যের বিষয়ে বাদশাহর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ‘বিগ বস ২০’-এর প্রতিযোগী হিসেবে ঈশা রিখীকে দেখা যেতে পারে—এমন খবর সামনে আসার পর তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও ফের শুরু হয়েছে আলোচনা। ফলে পর্দায় তার নতুন যাত্রার আগে বাদশাহর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের প্রসঙ্গই এখন নতুন করে সামনে এসেছে।