বাংলাদেশি ফ্ল্যাগ গার্ল প্রিয়তা ইফতেখার, যিনি ইতিমধ্যে ২০০টির বেশি প্রসিদ্ধ শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এবার তিনি সম্পন্ন করলেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস। সেখানকার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি-তে (ইউটিএস) করেছেন অনার্স ও মাস্টার্স। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। আর এই সমাবর্তন মঞ্চে সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি পড়েছিলেন একটি বিশেষ শাড়ি। যেখানে ফুটে উঠেছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতে গাজায় চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
জানা গেছে, প্রিয়তার পরিবার থাকে অস্ট্রেলিয়ায়। ইউটিএস-এ পড়ার সুবাদে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আসতে ও পরিবারের কাছাকাছি থাকতে পেরেছেন।
তাঁর কথায়, ‘আমার বাবা-মা উভয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্নাতক করেন। তবে তারা সমাবর্তন মিস করেছেন। তাই মা কোনো স্নাতকের ছবি দেখলেই ভাবতেন, আমাকে সমাবর্তনের গাউন পরা দেখে যেতে পারবেন কিনা।’
তবে প্রিয়তার মা জীবদ্দশায় মেয়ের এই অর্জন দেখে যেতে পারেননি। তাঁর বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। তাঁদের স্মৃতি বহনের পরিকল্পনা থেকে ইউটিএস’র সমাবর্তনে বিশেষ শাড়িটি পরেন প্রিয়তা। ২০০৫ সালে এটি তাঁর মাকে উপহার দিয়েছিলেন তাঁর বাবা।
প্রিয়তা বললেন, ‘এই শাড়িতে কালো, সাদা, সবুজ ও লাল প্যাটার্ন রয়েছে, যা যুদ্ধ ও গণহত্যার বার্তা তুলে ধরে। এর রঙ বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিন উভয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। গণহত্যার প্রতিবাদ এবং শান্তির আহ্বানে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হতেই এই শাড়ি পরা। এতে একইসঙ্গে ১৯৭১ ও ২০২৪ দুটি ভিন্ন সময়ের গল্প ফুটে উঠেছে।’
প্রিয়তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে, তিনি বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত নূরজাহান বেগমের নাতনি। তাঁর নানা কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই)।
২০০৮ সালে ‘দ্য ফ্ল্যাগ গার্ল’ নামের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেন প্রিয়তা। এর মাধ্যমে ভ্রমণ বিষয়ে নারীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ভ্রমণপিপাসুরা এই নেটওয়ার্কের সদস্য।
প্রিয়তার প্রথম বিদেশ ভ্রমণ ছিল শ্রীলঙ্কায়। এরইমধ্যে ঘুরেছেন বিশ্বের ২০০’রও বেশি শহরে। কাজ করেছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইডের মুকুট। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় মিস ট্যুরিজম ওয়ার্ল্ড, মিস ল্যান্ডস্কেপস ইন্টারন্যাশনাল ও মিস মাল্টিন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।