‘নো আদার ল্যান্ড’খ্যাত অস্কারজয়ী ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের গ্রামে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সোমবার (২ জুন) তথ্যচিত্রটির সহ-নির্মাতা বাসেল আদ্রা ও ইউভাল আব্রাহাম আয়োজিত এক সফরে পশ্চিম তীরের গ্রামগুলোয় যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে।
তথ্যচিত্রে ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বর্বর হামলার চিত্র ফুটে উঠেছে। নির্মাতারা জানান, বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা-নিপীড়ন সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য তাঁরা সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
সামাজিকমাধ্যমে ইউভাল আব্রাহামের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ইসরায়েলি সৈন্য সফররত আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের বলছে যে সামরিক আদেশের কারণে ওই এলাকায় যাওয়ার কোনো পথ নেই।
তবে পশ্চিম তীরের বাসিন্দা বাসেল আদ্রা জানান, এই সফরে তাঁদের ‘খালেত আ-দাবা’ ও ‘তুওয়ানি’ নামের দুটি গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সামরিক বাহিনী সেখানে যেতে বাধা দেয়।

এদিকে, এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেত আ-দাবাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ সেখানে সরাসরি গুলিবর্ষন প্রশিক্ষণ অঞ্চল রয়েছে। তুওয়ানিতে এমন প্রশিক্ষণ অঞ্চল নেই, তবে ‘জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সংঘর্ষ এড়াতে’, যারা আইনশৃঙ্খলার কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, তাদের জন্য এই এলাকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নির্মাতা আদ্রা, যিনি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন; তিনি বলছেন, ‘তারা (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) চায় না সাংবাদিকরা গ্রামবাসীর সঙ্গে দেখা করার জন্য গ্রামে আসুক। এটা স্পষ্ট যে বিশ্ব এখানে কী ঘটছে তা দেখুক, সেটা তারা চায় না।’
গত শতকের আশির দশকে পশ্চিম তীরের ‘মোসফারেত ইয়াত্তা’ নামের ছোট্ট একটি বেদুইন গ্রামসহ আশপাশের কিছু এলাকা ফায়ারিং জোন (গুলিবর্ষন অঞ্চল) হিসেবে ঘোষণা করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রায় ১,০০০ ফিলিস্তিনি সেখানেই থেকে গেছেন। অতীতে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও কূটনীতিকরা এসব গ্রাম পরিদর্শন করেছেন।
প্রসঙ্গত, ৯৭তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস (অস্কার) আসরে সেরা তথ্যচিত্র নির্বাচিত হয়েছে নো আদার ল্যান্ড, যা কিনা ফিলিস্তিনি গ্রাম গুঁড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগ্রামের বর্ণনা। যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেছেন ফিলিস্তিনের বাসেল আদ্রা, হামদান বল্লাল এবং ইসরায়েলের ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর।
সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)


যাঁরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, সিনেমাটি তাঁদের উৎসর্গ করছি: রাজীব
