গত ১৯ আগস্ট হেমা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কার্যত ধস নেমেছে দক্ষিণ ভারতের বিনোদন দুনিয়ায়।
সম্প্রতি কলকাতার অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও অভিযোগ করেন। যে কারণে কেরালা চলচ্চিত্র একাডেমির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যান রণজিৎ। এবার অ্যাসোসিয়েশন অব মালায়লাম মুভি আর্টিস্ট সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে সরলেন সুপারস্টার মোহনলাল। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ নেই।
জানা যায়, অ্যাসোসিয়েশন অব মালায়লাম মুভি আর্টিস্ট সংগঠনের ২ সদস্য তথা অভিনেতা সিদিক্কি ও বাবুরাজের নামে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা একজন এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, অন্যজন যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠার পরই মোহনলাল সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তারপর মঙ্গলবার ডিসলভ হয়ে যায় অ্যাসোসিয়েশন অব মালায়লাম মুভি আর্টিস্ট সংগঠনের এক্সিকিউটিভ কমিটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এদিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে কিছু অভিনেত্রী নারী নিগ্রহের অভিযোগ এনেছেন। সেই দায় স্বীকার করে কার্যনির্বাহী কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সভাপতি এবং সংগঠনের প্রত্যেক সদস্য। আশা, দু’মাসের মধ্যে ফের নির্বাচন হবে। নতুন কমিটি গঠন করা হবে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা করছি, নতুন নেতৃত্ব সংগঠনটিকে আগের থেকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলবেন।’
প্রসঙ্গত, মালয়ালাম ছবির জগতে অভিনেত্রীদের হেনস্থার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার সরব হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আক্রান্তেরা। কিন্তু, সে সময় তাঁদের কথা সেভাবে গ্রাহ্য হয়নি। সেই দিকে নজর আকর্ষণ করে মালয়ালাম অভিনেতা শাম্মি থিলাকান মোহনলালের নিন্দাও করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, মোহনলাল পদক্ষেপ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। নইলে এই জঘন্য অপরাধ দিনের পর দিন ঘটত না।
বিবিসি সম্প্রতি জানায়, দক্ষিণ ভারতের মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতে কীভাবে নারীদের যৌন হেনস্থা করা হয়, তা বেরিয়ে এসেছে সরকারি একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। এই রিপোর্ট ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে কেরালা।
কেরালার হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কে হেমার নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি (হেমা কমিটি) মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের কাজের পরিস্থিতি নিয়ে পেশ করা রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছে কেরালার সরকার। সেই রিপোর্টে উঠে এসেছে কীভাবে ‘কাস্টিং কাউচ’ মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ‘ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে’।