বিমানবন্দরে অস্ত্র নিয়ে ঝামেলায় পড়েছিলেন তারাও

বিমানবন্দর মানেই উচ্চ নিরাপত্তা। ব্যাগ খুললেই বেরিয়ে আসে কে কী নিয়ে ঘুরছেন—তা এক মুহূর্তেই স্ক্যানার ধরিয়ে দেয়। আর সেই স্ক্যানারে যখন ধরা পড়ে পিস্তল, রিভলভার বা গুলি, তখন মঞ্চের তারকা পরিণত হন পুলিশের হেফাজতের অতিথিতে। হলিউড-বলিউডের অনেক নামকরা তারকার জীবনে ঘটেছে এমন ঘটনা। কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ পেয়েছেন সতর্কবার্তা। চলুন দেখে নেওয়া যাক, বিমানবন্দরে অস্ত্রসহ ধরা পড়া এমন কিছু তারকার নাম—

হলিউডের তারকারা

ডেভিড হেনরি
‘উইজার্ডস অব ওয়েভারলি প্লেস’-খ্যাত ডেভিড হেনরি ২০১৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দরে আটক হন। নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ে তার ব্যাগে ধরা পড়ে একটি লোডেড ৯ এম এম পিস্তল। পরে তিনি বলেন, এটি ভুলে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি খুবই লজ্জিত।

প্লাইস
২০১৪ সালে ফ্লোরিডার ট্যাম্পা বিমানবন্দরে র‍্যাপার প্লাইসের ব্যাগে পাওয়া যায় একটি ৯ এম এম পিস্তল ও গুলি। অস্ত্রটি বহনের কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না তার কাছে। ফলে তাকে গ্রেপ্তার করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

জুয়েলজ স্যান্টানা
নিউজার্সির বিমানবন্দরে নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ে তার ব্যাগে একটি লোডেড ডেরিঞ্জার পিস্তল পাওয়া যায়। ধরা পড়ার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আত্মসমর্পণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র বহন ও আগের দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে আরও কঠোর অভিযোগ আনা হয়। সালটা ছিল ২০১৮।

টি-পেইন
একই বছর আটলান্টার বিমানবন্দরে র‍্যাপার টি-পেইনের বডিগার্ডের ব্যাগে পাওয়া যায় একটি হ্যান্ডগান। অস্ত্রটি টি-পেইনের নামে রেজিস্ট্রার করা ছিল এবং বৈধ ছিল বলে পুলিশ পরে সেটি ফেরত দেয়। তিনি বলেন, এটি ছিল নিছক ভুল—পরিষ্কার করার সময় ভুল করে ব্যাগে রেখে দেওয়া হয়েছিল।


বলিউডের তারকারা

অমিতাভ বচ্চন
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজ বিমানবন্দরে তল্লাশির সময় বিগ বি’র অস্ত্রের লাইসেন্স নম্বর ও অস্ত্রের তথ্য মিলছিল না। যদিও তদন্তে দেখা যায়, এটি একটি বৈধ অস্ত্র ছিল, কিন্তু কাগজপত্রে সামান্য গড়মিল ছিল বলে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পরে বিষয়টি মিটে যায়।

সালমান খান
ঘটনাটা বিমাবন্দরে নয় তবে আলোচিত। ১৯৯৮ সালে যোধপুরে শুটিং চলাকালে বনাঞ্চলে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় আলোচনায় আসেন সালমান খান। অভিযোগ ছিল, তিনি অবৈধভাবে একটি রাইফেল ও রিভলভার ব্যবহার করেছেন যার লাইসেন্স ছিল না। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে আদালতে চলেছে। যদিও তিনি পরে নির্দোষ প্রমাণিত হন, ঘটনাটি আজও স্মরণীয়।

সঞ্জয় দত্ত
এটা ঠিক সালমানের মতোই! ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণের সময় সঞ্জয় দত্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় এ কে–৫৬ রাইফেল ও গ্রেনেড। অভিযোগ ছিল, তিনি এগুলো অবৈধভাবে নিজের কাছে রেখেছিলেন। অস্ত্র মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়।