ডায়েট কারও জন্য আশীর্বাদ, আবার কারও জন্য আতঙ্ক! শোনা যায়, ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান গত পাঁচ বছর ভাত মুখেও তোলেননি, তাতেই তিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ফিট! কিন্তু একই পথে হেঁটে কেউ কেউ গিয়েছেন সরাসরি হাসপাতাল শয্যায়। সেই তালিকায় রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল, অ্যান হ্যাথাওয়ে, তানজিন তিশার মতো তারকারা।
সামাজিকমাধ্যমে তারকাদের ফিটনেস জার্নি দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হন। কিন্তু পর্দার পেছনের গল্পটা সবসময় এত সুন্দর নয়। এমনও হয়েছে যে, তারকাদের ক’জন ডায়েট করতে গিয়ে নিজেদের শরীরকে ফেলে দিয়েছিলেন বড় ঝুঁকির মুখে।
২০২৩ সালে অভিনেত্রী তানজিন তিশা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানা যায়, দিনের পর দিন কড়া ডায়েট আর মানসিক চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়েই তাঁর শরীর ভেঙে পড়েছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে সরাসরি বলে দেন, ‘ডায়েট বন্ধ করো, স্বাভাবিক খাবার খাও, বিশ্রাম নাও।’
‘লা মিজেরাবল’ ছবির জন্য অ্যান হ্যাথাওয়ে অনুসরণ করেছিলেন কঠোর ক্যালরি-নিয়ন্ত্রিত ডায়েট। পরে স্বীকার করেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে একদম নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলেন।
‘মুসাফির’খ্যাত নায়িকা মারজিয়া। ২০১৬ সালে ‘মুসাফির ২’ ছবির জন্য কিছুদিনের মধ্যেই ১০ কেজি ওজন কমাতে গিয়ে তিনি শুরু করেন ক্র্যাশ ডায়েট—শুধু ফল আর সবজি খেয়ে দিন কাটানো। কিন্তু ফলাফল হলো গুরুতর অসুস্থ হয়ে সোজা হাসপাতালে। পরে নিজেই স্বীকার করেন যে, পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া এই ঝুঁকি নেওয়াটা ভুল ছিল।
বিদ্যা সিনহা মীমের গল্পটা একটু ভিন্ন। তিনিও কয়েকবার অসুস্থ হয়েছেন, কিন্তু শিখেছেন ভুল থেকে। করোনা মহামারির পর ওজন বেড়ে যাওয়ায় তিনি প্রায় চার মাস ট্রেইনারের তত্ত্বাবধানে সুষম খাবার আর নিয়মিত ব্যায়াম করে কমিয়েছিলেন ১০ কেজি ওজন; কোনোপ্রকার শর্টকাট ছাড়াই।
বলিউডের বিদ্যা বালান ক্যারিয়ারের শুরুতে বারবার কঠোর ডায়েটের কারণে ভুগেছেন শারীরিক দুর্বলতা আর হরমোনজনিত সমস্যায়। পরে বুঝতে পারেন যে, ভারসাম্যই আসল রাস্তা।
‘দ্য ম্যাশিনিস্ট’ ছবির জন্য ক্রিশ্চিয়ান বেল কমিয়েছিলেন প্রায় ২৮ কেজি ওজন; কল্পনা করতে পারেন? পরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন তাঁকে তীব্র ক্লান্তি আর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগতে হয়েছে।
হলিউড তারকা জ্যারেড লেটো একাধিক ছবির জন্য বারবার ওজন বাড়িয়েছেন-কমিয়েছেন, আর নিজেই জানিয়েছেন যে, এই বারবার ওঠানামা শরীরের জন্য মস্ত বড় ধাক্কা।
‘কাস্ট অ্যাওয়ে’ ছবির জন্য একই পথে ছিলেন টম হ্যাঙ্কস। ওজন কমানোর পর, আবারও বাড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে এই অভিনেতার সতর্কবার্তা—হঠাৎ এমন পরিবর্তন কতটা ক্ষতিকর হতে পারে শরীরের জন্য।
এই সব গল্প থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, দ্রুত ফল পাওয়ার লোভে কঠোর ডায়েট করা মানেই বিপদ ডেকে আনা। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো ধীরে ধীরে ওজন কমানো—সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, আর অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন।