২২ বছরেই চলে গেলেন ‘মিস অস্ট্রিয়া’

মাত্র ২২ বছর বয়সেই থেমে গেল বর্তমান ‘মিস অস্ট্রিয়া’ লুসিয়া সিসিকের জীবন। জন্ম থেকেই জটিল হৃদরোগে ভুগছিলেন এই সুন্দরী। দীর্ঘদিনের শারীরিক লড়াই শেষে অকালেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।

সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে লুসিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা পরিচালনাকারী সংস্থা ‘মিশন অস্ট্রিয়া’। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

২০২৪ সালে ‘মিস অস্ট্রিয়া’ খেতাব জিতেছিলেন লুসিয়া। এরপর নতুন কোনো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর মাথাতেই ছিল এই মুকুট। অল্প বয়সেই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজের জায়গা করে নেওয়া এই তরুণীর বিদায় তাই নাড়া দিয়েছে অনেককেই।

লুসিয়া। ছবি: সংগৃহীতলুসিয়ার জীবনের গল্প অবশ্য শুধু সৌন্দর্যের মুকুটে আটকে ছিল না। জন্মের পর থেকেই হৃদরোগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। শৈশবেই একাধিক শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হন তিনি। এমনকি জন্মের পরপরই তাঁর প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়।

নিজের অসুস্থতার কথা কখনো আড়াল করেননি লুসিয়া। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরতেন। জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের প্রচেষ্টাতেই এতদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পেরেছেন তিনি।

শৈশবের অসুস্থতার কারণে অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা কিংবা দৌড়ঝাঁপ করতে না পারলেও, সেই সীমাবদ্ধতাই তাঁকে ভেতর থেকে আরও শক্ত করে তুলেছিল। পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

লুসিয়ার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে শৈশব থেকেই তিনি হৃদরোগজনিত নানা সমস্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে অস্ট্রিয়ার হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের সহায়তাকারী সংগঠন ‘হার্জকিন্ডার অস্ট্রিয়া’। আর ‘মিশন অস্ট্রিয়া’র ভাষায়, লুসিয়াকে সবসময় একজন চমৎকার ও সাহসী তরুণী হিসেবেই মনে রাখা হবে।