মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়ল অল্লু অর্জুন ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রাকা’। সিনেমাটির একটি শুটিংয়ে একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীকে রিয়েল টাইমে মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে ধারণ করা হয়েছে। আর এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘মোস্ট পিপল মোশন-ক্যাপচারড ইন রিয়েল-টাইম’ বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে সিনেমাটি।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেকর্ডের স্বীকৃতিপত্র তুলে দেওয়া হয় ‘রাকা’র পরিচালক অ্যাটলি ও অভিনেতা অল্লু অর্জুনের হাতে। এ সময় সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সান পিকচার্স’-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিনেমাটির শুটিংয়ের সময় রেকর্ডটি তৈরি হয়। একটি দৃশ্য ধারণের জন্য একই সময়ে ৩৭ জন শিল্পীর মোশন ক্যাপচার করা হয়। ভারতীয় সিনেমায় এর আগে এমন নজির দেখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রায় ৮০০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত হচ্ছে ‘রাকা’। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও সিনেমাটিকে বড় পরিসরে নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিচালনায় রয়েছেন অ্যাটলি। চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অল্লু অর্জুনের সঙ্গে অভিনয় করছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে অস্কারজয়ী হলিউড তারকা উইল স্মিথকে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠার পর আনন্দ প্রকাশ করেছেন অল্লু অর্জুন। তিনি বলেন, পুরো দলের জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। অ্যাটলির ভাবনা, দূরদর্শিতা ও নিখুঁত নির্দেশনার পাশাপাশি পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বড় একটি প্রজেক্টে আস্থা রাখার জন্য সান পিকচার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
অ্যাটলির কাছেও এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নিজের অনুভূতি জানিয়ে পরিচালক বলেন, ছোটবেলা থেকেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কথা শুনে আসছেন তিনি। কিন্তু নিজেদের একটি কাজ একদিন সেখানে জায়গা করে নেবে, তা কখনো ভাবেননি।
একটি শুটিং সেশনে ৩৭টি চরিত্রকে মোশন ক্যাপচারের মাধ্যমে একত্রিত করার স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর কাছে দারুণ এক অনুভূতি বলেও জানান অ্যাটলি। তাঁর ভাষায়, বড় স্বপ্ন নিয়ে পূর্ণ বিশ্বাসে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে কখনো কখনো অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে। এই অর্জনের জন্য পুরো দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘রাকা’। মুক্তির আগেই গিনেস রেকর্ডে নাম লেখানোয় সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও আরও বাড়ছে।