কিংবদন্তি অ্যাকশন তারকা জ্যাকি চ্যান মারা গেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ভক্তরা, এমনকি তা অভিনেতার শারীরিক অবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল ফটোকার্ডে দেখা যায়, জ্যাকি চ্যানের একটি সাদাকালো ছবি এবং তার নিচে লেখা—‘১৯৫৪-২০২৬’। যেখানে ৭২ বছর বয়সী এই অভিনেতা মারা গেছেন বলে মিথ্যা দাবি করা হয়।
তবে জ্যাকি চ্যান মারা গেছেন—এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য কিংবা প্রমাণ নেই। বরং গত ২৯ সেপ্টেম্বর একাধিক বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, ফং শিলোং নামের এই অভিনেতা বেঁচে আছেন এবং তিনি নিয়মিত জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন ও তাঁর আসন্ন প্রজেক্টগুলো নিয়ে কাজ করছেন।
এদিকে, সামাজিকমাধ্যমে সেসব ভুয়া পোস্ট বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে একটি বহুল প্রচারিত পোস্টে মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে ৩৮ লাখেরও বেশি ভিউ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
গুজব যেভাবে ছড়ায়
জ্যাকি চ্যানের নাম ও তাঁর জন্ম-মৃত্যুর সাল সম্বলিত শোকবার্তার মতো একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই ভুয়া মৃত্যুর খবর চাউর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক তারকাদের নিয়ে এমন ভুয়া মৃত্যুর গুজব প্রায়ই অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নির্ভরযোগ্য সূত্র বা তথ্য ছাড়াই শ্রদ্ধার্ঘ্যমূলক কোনো ছবি ব্যবহার করা হয়।
সবশেষ জনসমক্ষে জ্যাকি চ্যানের উপস্থিতি ছিল গত ৭ জুলাই, এদিন সিঙ্গাপুরের একটি পাবলিক স্কুল পরিদর্শন করেন তিনি।
সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, লিম ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন জ্যাকি চ্যান। এ সময় তিনি সেই স্কুলের ৯০০’র বেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
ওই সফরের ভিডিওতে এই অভিনেতাকে তাঁর ‘হার্ড টু সে গুডবাই’ গানটি গাইতে এবং শিক্ষার্থী ও স্টাফদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যাকি চ্যানের ক্যারিয়ার ছয় দশকেরও বেশি সময়ের। ‘রাশ আওয়ার’, ‘পুলিশ স্টোরি’ ও ‘ড্রাঙ্কেন মাস্টার’-এর মতো বিখ্যাত সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সবশেষ ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কারাতে কিড: লিজেন্ডস’ নামের একটি সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে।