২০১৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল নির্মাতা মালেক আফসারী পরিচালিত ‘পাসওয়ার্ড’ সিনেমাটি। এতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেন শবনম বুবলী। মুক্তির পর ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়েছিল এই সিনেমা। তবে প্রথমদিকে শোনা গিয়েছিল, এতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করবেন তানজিন তিশা। যদিও শেষমেষ বুবলীকেই দেখা যায়। এবার মুক্তির চার বছরের মাথায় তিশার বাদ পড়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন এর প্রযোজক মো. ইকবাল। মূলত সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার সময় এক বিনোদন সাংবাদিকের সহযোগিতা কিংবা তদারকির কারণেই বাদ পড়েন এই অভিনেত্রী।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ইকবাল। তাঁর ভাষ্য, ‘‘‘পাসওয়ার্ড’ সিনেমাটি যখন বানাই, তখন নায়িকা হিসেবে তানজিন তিশাকে ভেবেছিলাম শাকিবের বিপরীতে। সন্ধ্যার দিকে আমাদের একটি রেস্টুরেন্টে বসার কথা। এরইমধ্যে তিনি চূড়ান্ত হন। হঠাৎ করে এক সাংবাদিক আমাকে ফোন করে জানতে চাইলেন, ‘আপনি কি তানজিন তিশাকে নিয়ে বসছেন?’ বললাম, ‘আমি ও আমার স্ক্রিপ্ট রাইটার আব্দুল্লাহ জহির বাবু ও তপু খানকে নিয়ে ৭টার দিকে বসব, এখানে সাংবাদিক কীভাবে জানলো! এই বিষয়টা আমার একটু লাগছে! তখন আমি শাকিব খানকে বললাম আমরা তো ৭টায় বসছি, আপনি কি আসতে পারবেন? তিনি সম্মতি দিলেন। আবারও ফোন করলেন ওই সাংবাদিক। জানতে চাইলেন শাকিব খান কি বসবেন? তখন আমার মনে হলো যে আমাকে হয়তো তিনি সন্দেহ করছেন। তখন তাঁকে বললাম, ‘হ্যাঁ, শাকিব খান আসছেন।’’’
যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘শাকিব খান সময় মতো চলে আসলেন। আমি তাঁকে গাড়ি থেকেও নামতে দিইনি। বললাম, ‘আপনি চলে যান’। তার দুই-তিন মিনিট পরে তানজিন তিশা আসছেন। তো আমরা বসছি। তখন তানজিন তিশাকে জিজ্ঞেস করলাম—‘কে আপনি?’ তিনি জহির বাবুর দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছেন। আমি সেদিন বসিও নাই। তারপর তিশার বদলে এ ছবিতে বুবলীকে ইন করিয়ে দিলাম।’’
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই শোবিজের আলোচনায় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। গত ১৫ নভেম্বর মধ্যরাতে অচেতন অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর থেকেই এমন শোরগোল। ছড়িয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তিনি! যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’কে ‘ভুল সংবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর মাঝে আবার এক বিনোদন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিবি কার্যালয়ে অভিযোগও জানিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজপথ নেমে অভিনেত্রীর অপেশাদার আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
মূলত এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়েই তিশার বাদ পড়ার বিষয়টি অবতারণা করেন মো. ইকবাল। তিনি বলেন, ‘যখন তোমার কাজে লাগবে তখন তুমি বিনোদন সাংবাদিককে ইউজ (ব্যবহার) করবে, আর যখন কাজে লাগবে না, তখন বিনোদন সাংবাদিককে বকা দিবে—এই নীতি নিয়ে থাকা ঠিক না। একটি কাজে প্রযোজক-পরিচালককে বিশ্বাস করতে হবে, আবার যাঁরা তোমাকে নিয়ে এতো কাজ করে সেই সাংবাদিকদেরও বিশ্বাস করতে হবে।’