মাসখানেক ধরেই গুঞ্জন ছিল—শিল্পী সমিতির সদস্যপদ হারাতে চলেছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। এবার আসন্ন নির্বাচনের আগেই এলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। শনিবার (২ মার্চ) চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বনভোজনে জায়েদের সদস্যপদ বাতিলের ঘোষণা দেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার।
ঢাকার অদূরে বনভোজন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সমিতির এজিএম। সেখানে সবার উপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে জানান, সমিতির খাতা থেকে জায়েদ খানের ভোটাধিকার ও সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। কারণ তিনি, সমিতিসহ সাধারণ সম্পাদকের (নিপুণ) নামে মিথ্যা, মনগড়া, কুরুচিপূর্ণ কল্পকাহিনি—সাংবাদিক সম্মেলন, ইউটিউব, ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে আসছেন। সেই অপরাধে গত ০২/০৪/২০২৩ তারিখে সমিতির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।
এমন খবরে সরগরম চলচ্চিত্রাঙ্গন। কিন্তু এ বিষয়ে জায়েদ খানের প্রতিক্রিয়া কী—জানতে যোগাযোগ করা হলে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে তিনি বলেন, ‘আমার সদস্যপদ বাতিলের এখতিয়ার তাদের নেই। কেননা বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের কোনো বৈধতা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন আমি এই সমিতির তিনবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। অথচ বনভোজনের দাওয়াতই পেলাম না। উল্টো শুনতে হলো আমার নাকি সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে! সত্যি বলতে আগেও বলেছি বহুবার, এখনও বলছি—এই অবৈধ ব্যক্তির অবৈধ সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমি যা করার সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই করেছি এবং করব।’
এ ছাড়া নির্বাচনের আগেই কেন এমন সিদ্ধান্ত এলো—প্রশ্ন রাখলে জায়েদ খান বললেন, ‘কেন এসেছে সেটা তো শিশুও বলতে পারবে। একজন অবৈধ দখলদার যা চাইবে তাই করতে পারে। কারণ, তার তো ভোটারদের কাছে জবাবদিহি নেই। ভোটে তো আমিই জয়লাভ করেছিলাম। অথচ দখল করলো আরেকজন (নিপুণ)। যাই হোক, গত এক বছর এটা নিয়ে আমি ভাবিইনি। ব্যস্ত আছি নিজের শুটিং নিয়ে। ঈদে সিনেমা আসছে। সেদিকে এখন আমার মূল নজর। অথচ এরমধ্যে আবারও অবৈধ ব্যক্তি তার অবৈধ ক্ষমতা দেখাল। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি তিনবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এই সমিতির। এটা আমার প্রাণের সংগঠন। এই সংগঠন ও সংবিধানের প্রতিটি লাইন আমার মুখস্ত। আমি একজন সাংগঠনিক ছেলে। আমি জানি, কোনটা সংগঠন বিরোধী আর কোনটা ব্যক্তি বিরোধী। শুরু থেকেই আমার অভিযোগ একজন ব্যক্তি ও তার অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে। কোনও ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তার বিরুদ্ধে কি কেউ কথা বলতে পারবে না? ব্যক্তির দায় তো সংগঠনের নয়। আমি তো সংগঠনের বিরুদ্ধে কখনও কিছু বলিনি। তাহলে কেন সংগঠনবিরোধী বক্তব্যের দায় তুলে আমার সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করলো? আর কাউকে বাতিল করতে হলে তো তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে অন্তত তিনবার। আমি একটি চিঠি পেয়েছি। সেটার জবাবও দিয়েছি। আর কোনো চিঠি আসেনি। আসলে এরা (নিপুণ আক্তার) তো সংগঠনের সংবিধানই পড়েনি। জানে না, সংগঠনের বিধি-বিধান। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। বনভোজনে গিয়ে এজিএম ডেকে আমাকে বাতিল করছে! অবৈধদের আসলে বৈধ বোধ থাকে না। আবারও প্রমাণ হলো।’
আগামী ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। সম্ভাব্য তারিখটি পেছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে চলছে তারকাদের প্যানেল গঠনের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও মিশা সওদাগর একই প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বর্তমান কমিটির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন এবার প্রার্থী হচ্ছেন না। ফলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা নিপুণ আক্তারের প্যানেলে আসছে নতুন মুখ। যদিও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিভিন্ন শো আর শুটিংয়ের ব্যস্ততায় সময় কাটছে জায়েদ খানের। যা-ই করছেন, হচ্ছেন ভাইরাল। আসন্ন রোজার ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে জায়েদ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সোনার চর’। এতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নবাগত জান্নাতুল স্নিগ্ধা। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছে মৌসুমী, ওমর সানী, শহীদুজ্জামান সেলিম, শবনম পারভীন প্রমুখ। পরিচালনা করেছেন জাহিদ হোসেন।