বিভিন্ন বয়সের দর্শকের জন্য সিনেমাকে প্রদর্শনযোগ্য হিসেবে ছাড়পত্র দিতে তৈরি হয়েছিল চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড, যা পরিচালিত হয়ে আসছিল দেশ স্বাধীনের আগে ও পরের বেশকিছু নীতিমালা ও সংস্কারের মাধ্যমে। এবার চলচ্চিত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নামকরণ হয়েছে সার্টিফিকেশন বোর্ড। তবে এই রূপান্তরে জড়িয়ে আছে বিগত সাত দশকের বিভিন্ন পর্যায়।
৬৩’র আইন
ব্রিটিশ আমলে প্রবর্তিত দ্য সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট-১৯১৮’র সূত্র ধরে ১৯৫২ সালে ‘ইস্ট বেঙ্গল বোর্ড অব ফিল্ম সেন্সরস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে এতে কিছু সংস্কার আনা হয়, যা ‘দ্য সেন্সরশিপ অব ফিল্ম অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
৭২’র সেন্সর বোর্ড
দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে এই আইনে আরও কিছু মৌলিক সংশোধন এনে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৭ সালের ১০ জুন বিদ্যমান আইনে আরও কিছু পরিবর্তন এনে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য মন্ত্রণালয়, যা ‘বাংলাদেশ সেন্সরশিপ অব ফিল্ম রুলস, ১৯৭৭’ নামে পরিচিত।
৮৫’র সংস্কার
১৯৮৫ সালে আবারও বেশকিছু বিধিমালা সংযোজন করা হয় বিদ্যমান সেন্সর বোর্ডের আইনে, যা ‘দ্য কোড ফর সেন্সরশিপ অব ফিল্মস ইন বাংলাদেশ, ১৯৮৫’।
চার দশকের দাবি ও ক্ষোভ
স্বাধীনতার পর সেন্সর বোর্ডে যেসব বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হয়, সেগুলো মূলত পাকিস্তান আমলের বিভিন্ন আইনের বাতিল কিংবা সংশোধনী হিসেবে, যেগুলো দেশ ও দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বার্থ রক্ষার্থে ছিল সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে, শূন্য দশকের পর এমন কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যখন বিদ্যমান সেন্সর বোর্ডের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে বলে দাবি করেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। এরপর দশকের পর দশক চলচ্চিত্রাঙ্গনে সেন্সর বোর্ডের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২৩’র খসড়া
এসব দাবি আরও জোরালো হয়, যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেন্সর নীতিমালার মারপেঁচে বেশকিছু আলোচিত সিনেমার মুুক্তি আটকে যায়। এরই প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকার গত বছরের ২৯ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বিল, ২০২৩’ নামে একটি খসড়া পাস করে। পরে এ বিষয়ে একই বছরের ১৩ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। যদিও তখনও সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, বহাল ছিল চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড।
২৪’র সার্টিফিকেশন বোর্ড
গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনার পতন হলে নতুন করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট সেন্সর বোর্ড কমিটি ঘোষণা করে তথ্য মন্ত্রণালয়। তখন আবারও এই সেন্সর বোর্ড বাতিল করে সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনের দাবি জানান চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। এই ধারাবাহিকতায় গত ২২ সেপ্টেম্বর সার্টিফিকেশন বোর্ড-সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য মন্ত্রণালয়। অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে বাতিল হয় সেন্সর বোর্ড। নতুন আইনে তুলে নেওয়া হয় ‘সেন্সর’ শব্দটি। তবে সার্টিফিকেশন আইন-২০২৩’র বিদ্যমান আইনগুলো পর্যালোচনা করে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের দাবি তুলেছেন চলচ্চিত্রকর্মীরা।