ইচ্ছে ছিল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। কিন্তু অভিনয়ে পা রেখে পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। দেশ ও দেশের বাইরে তৈরি হয়েছে অগণিত অনুরাগী। অন্যদিকে, সিনেমার প্রতি নিজের ভালোলাগা তো আছেই! ভক্তদের নিরাশ করতে চাননি বলে থেকে গেলেন নায়ক হিসেবে। দুই দশকে শাকিব খান হয়ে উঠেছেন মেগাস্টার। বলা হয়, এ নায়কের কাঁধে ভর করেই ঢালিউড এগিয়ে চলছে।
আজ চিত্রনায়ক শাকিব খানের ৪৬তম জন্মদিন। ১৯৮৩ সালের ২৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর প্রকৃত নাম মাসুদ রানা। চলচ্চিত্রে এসে নাম বদলে হয়ে যান শাকিব খান। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সরকারি চাকরীজীবী। মা গৃহিণী। তাঁরা এক ভাই ও এক বোন।
বিশেষ এই দিনটিতে জেনে নেওয়া যাক শাকিব সম্পর্কিত যত প্রথম কীর্তি—
অভিনয়জীবনের শুরুতে এই তারকা প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন আফতাব খান টুলু পরিচালিত ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’ সিনেমায়। কিন্তু এটি প্রথম সাইন করা হলেও প্রথম মুক্তি পাওয়া ছবি নয়। মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শাকিব খানের প্রথম ছবি সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় এটি। যদিও সেসময় তেমন ব্যবসা করতে পারেনি ছবিটি।
শাকিব খান অভিনীত প্রথম হিট ছবি ‘বিষে ভরা নাগিন’। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত এই সিনেমার মাধ্যমেই প্রথম হিটের রেকর্ড গড়েন নায়ক। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন মুনমুন। তাঁর সঙ্গেও শাকিব খানের এটাই প্রথম কাজ ছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় নায়ক শাকিব। পরিচালক মালেক আফসারী পরিচালিত ‘মনের জ্বালা’ ছবিতে প্রথমবার গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। গানটির শিরোনাম ‘আমি চোখ তুলে লাকালে সূর্য লুকায়’। সুরকার ছিলেন আলী আকরাম শুভ।
‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ ছবির জন্য ২০১০ সালে শাকিব প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এটি তাঁকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান এনে দেয়। ক্যারিয়ারে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
২০১২ সালে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়লাভ করেন শাকিব। পরপর দুই বার সমিতির নেতৃত্ব দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এবারের ঈদুল ফিতরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে শাকিব খানের ‘বরবাদ’ ও ‘অন্তরাত্মা’। প্রথমটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়, দ্বিতীয়টি ওয়াজেদ আলী সুমন। দুটি সিনেমার একটিতে শাকিবের নায়িকা টলিউডের ইধিকা পাল, অন্যটিতে দর্শনা বণিক।