সম্প্রতি অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমার একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে সামাজিকমাধ্যমে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের এমন প্রচারণায় র্মমাহত তিনি। এবার বিষয়টি বিস্তারিত জানালেন অভিনেত্রী নিজেই।
যে পরিপ্রেক্ষিতে অভিনেত্রীর বিচ্ছেদের গুজব ছড়িয়েছিল, ১৯ অক্টোবর দেওয়া সেই পোস্টটি ছিল—‘বিশ্বাসের দৃষ্টি দিয়ে যতবারই দেখি/ অবিশ্বাসের ছানি পরে নয়নে।’
এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেন পূর্ণিমা। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘সুদিনে মানুষের বন্ধুর অভাব হয় না। এদের অধিকাংশই হচ্ছে সুযোগসন্ধানী কৃত্রিম বন্ধু। এরা সবসময়ই নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যতিব্যস্ত থাকে। দুর্দিনে এদের খুঁজে পাওয়া ভার! কিছুদিন আগে আমার দেওয়া স্ট্যাটাসটি থেকে এমনটাই বোঝানো হয়েছিল।’
যোগ করে বলেন, ‘আসলে প্রতিটি মানুষের চারপাশে যা কিছু ঘটে, এসবকে কেন্দ্র করেই স্ট্যাটাসটা লেখা হয়েছিল। দিনশেষে আমিও একজন মানুষ। সবার মতো আমারও কম-বেশি কাছের-দূরের মানুষ রয়েছে। এ কারণে আমাকেও সুসময়ের বন্ধু ও স্বার্থপরদের ফেইস করতে হয়েছে। কিন্তু লেখাটির কিছু অংশ আগে-পিছে না বুঝে অনেকে আমার পারিবারিক জীবনের সাথে মিলিয়ে ফেলেছে!’
যেসব সংবাদমাধ্যম সত্যতা যাচাই না করেই বিচ্ছেদের গুজব প্রচার করেছে, তাদের ওপর ক্ষোভ ও দুঃখপ্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে কিছু সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে সত্যতা নিশ্চিত না করে অনেকটা চটকদার শিরোনাম দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা আমাকে ও আমার পরিবারকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার দেওয়া স্ট্যাটাসের সাথে পারিবারিক জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় আমরা আমাদের পরিবার ও সংসারজীবন নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দর্শকদের ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘সুভা’, ‘হৃদয়ের কথা’র মতো জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন পূর্ণিমা।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শুরু থেকে দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষের ভালোবাসার পাশাপাশি সংবাদকর্মীদেরও সাপোর্ট পেয়েছি। আশা রাখি, আগামীতেও আমার প্রতি তাদের ভালোবাসা অব্যাহত থাকবে।’
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে আহমেদ জামাল ফাহাদকে বিয়ে করেছিলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। ২০১৪ সালে তাঁদের এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে নায়িকা জানান, ফাহাদের সঙ্গে তাঁর প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর আগে বিচ্ছেদ হয়েছে। অর্থাৎ পূর্ণিমা তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানানোর পরই প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এরপর ২০২২ সালে ২৭ মে আশফাকুর রহমান রবিনকে বিয়ে করেন পূর্ণিমা। তাঁর স্বামী একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। পড়াশোনা করেছেন সিডনির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।