ছেলে-মেয়ে আর স্বামীহীন সংসার নিয়ে খুব আনন্দে আছি: হ‍ুমায়ূনের প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন

মাঝেমধ্যেই চলচ্চিত্রকার ও কথসাহিত্যিক হ‍ুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে স্মৃতির গভীরে ডুব দেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খান। আজও তেমনই এক আবেগঘন স্মৃতি সামনে আনলেন তিনি।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন গুলতেকিন খান। তিনি লেখেন, ‘মাঝে-মাঝে মানুষের কথায় কনফিউজড (দ্বিধান্বিত) হয়ে যাই। বেশি সাজগোজ আমার ভালো লাগে না, আর আমাকে দেখতেও ভালোও লাগে না! আমার মনে হয় প্রতিটি বয়সের একটি অন‍্যরকম সৌন্দর্য আছে। আমি শাড়ি পছন্দ করি খুব হালকা রঙের। গাঢ় রঙের মধ্যে লাল আমার প্রিয় রঙ! কিন্তু লাল লিপস্টিক আমার পছন্দ না। শুধু লাল নয়, কোনো গাঢ় রঙের লিপস্টিকই আমার পছন্দের নয়। তবে অন‍্যরা যখন গাঢ় রঙের শাড়ি পরেন, আর লিপস্টিক দেন তাদের দেখতে ভালো লাগে।’ 

হ‍ুমায়ূন আহমেদের প্রিয় দুই রং—কালো ও সবুজ এবং একটি ঘটনা স্মরণ করে গুলতেকিন লেখেন, ‘২০০৫ সালের মাঝামাঝি আমি একটি মিলাদে যাই, নতুন বাড়িতে ওঠার আনন্দের মিলাদ। আমি আমার প্রিয় হালকা গোলাপি সুতির শাড়ি পরি, ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক লাগাই আর চোখে একটু কাজল দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখি। আর মনে মনে বলি, পারফেক্ট! এক হাতে ঘড়ি, অন‍্য হাতে দুটো চুড়ি পরি! স্কুলে যেতে হলে সোনার চুড়ির বদলে অনেক কাচের চুড়ি পরতাম! মেয়েদের বসার জায়গা আলাদা ছিল, সেখানে বসি। একজন ভদ্রমহিলা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কয়েক বছর আগে ওনাকে গুলশানে একটা দোকানে দেখেছিলাম! কালো শাড়ি পরা, হাতভর্তি কালো আর লাল কাচের চুড়ি, কপালে টিপ! সঙ্গে নুহাশ আর হ‍ুমায়ূন আহমেদ! কী যে সুন্দর লাগছিল ওনাকে (আমি বুঝতে পারি ২০০১ অথবা ২০০২-এর কথা বলছেন। তখনও আমরা মাঝেমধ্যে একসাথে বের হতাম, কারণ আমার পরনে হ‍ুমায়ূন আহমেদের পছন্দের কালো আর সবুজ—দুই রঙের একটি) কী যে সুন্দর লাগছিল! আর এখন দেখেন ওনার কী অবস্থা!’

ফেসবুক পোস্টে ছবিটি শেয়ার করেছেন গুলতেকিন খান

যোগ করে তিনি বলেন, ‘তখন আমার প্রথম মনে হলো হালকা রঙ আর লিপস্টিকের জন‍্য কি সবাই আমাকে দুঃখী ভাবে? আমি তো দুঃখী মানুষ না! আমি আমার ছেলে-মেয়ে আর স্বামীহীন সংসার নিয়ে খুব আনন্দে আছি! এরপর আমি একগাদা গাঢ় রঙের শাড়ি ও লিপস্টিক কিনে ফেললাম। আমি মানুষের কাছে দুঃখী হয়ে থাকতে চাই না!’

সবশেষে পোস্টে জুড়ে দেওয়া ছবির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে অনুযোগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ছবিটি দেখে কি মনে হয় যে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই আমাকে ডিভোর্স দিয়ে আমার প্রাক্তন স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছে?’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সালে গুলতেকিনকে বিয়ে করেন হ‍ুমায়ূন আহমেদ। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তবে ২০০৩ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এর দুই বছর পর ২০০৫ সালে হুমায়ূন আহমেদ বিয়ে করেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে। 

বিচ্ছেদের অনেক বছর পর ২০১৯ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কবি আফতাব আহমদকে বিয়ে করেন ‍গুলতেকিন। ২০২২ সালের জুলাইয়ে মারা যান কবি আফতাব আহমদ।