ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। নবগঠিত বিএনপি সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নেটিজেনদের অনেকে। বিষয়টিকে বর্তমান সরকারের একটা ভালো সূচনা হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও। পাশাপাশি তিনি ওয়ান ইলেভেনের আদ্যোপান্ত নিয়ে অধিকতর তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের প্রধান ক্রীড়নক মাসুদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার বর্তমান সরকারের একটা ভালো সূচনা। এবার তদন্ত শুরু করা হোক ওয়ান ইলেভেনের আদ্যোপান্ত নিয়ে। এমনকি ২০০৮-এর নির্বাচন নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত।’
যোগ করে আরও বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন হচ্ছে সকল সর্বনাশের গোড়া। এই যে শতশত মানুষ গুম, হাজার-হাজার বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্বাচনব্যবস্থা ভ্যানিশ করে দেয়া, জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ হাসিনার সকল অপকর্মের লাইসেন্স এসেছে ওই ওয়ান ইলেভেন থেকে।’
দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদকালীন সময়ে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ ও জনগণ—এই বাস্তবতায় জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সেইসব অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং সেই সমস্ত স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফারুকী। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ট্রমা-আক্রান্ত জাতির সামনে আগানো এবং হিলিংয়ের (নিরাময়) জন্য দুইটা জিনিস দরকার: বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণ। স্মৃতি সংরক্ষণ বলতে বোঝাচ্ছি ইতিহাস সংরক্ষণ। সেটা মিউজিয়াম, ডকুমেন্টেশন, রিপোর্ট নানাভাবেই হতে পারে।’
সেইসব অপরাধের বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ সমাপ্ত না করে সামনে এগোতে গেলে বিপদের আশঙ্কা করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, ‘‘বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ ঘটে যাওয়া মাত্র ওই অধ্যায় নিয়ে পড়ে না থেকে সামনের দিকে আগানোর সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এই দুই কাজ অসমাপ্ত রেখে যদি ‘চলো সব ভুলে যাই’ বলে সামনে আগাই তাহলে দুইটা বিপদ: এক. অপরাধীদের অথবা নতুন অপরাধীদের উৎসাহ দেয়া হয়। তারা তখন পরবর্তী অপকর্ম থেকে জাস্ট একটা সুযোগ দূরে সর্বদা দণ্ডায়মান থাকে। দুই. বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণ ছাড়া সামনে আগালে ক্ষোভ থেকে যায় মানুষের যৌথস্মৃতিতে। হিলিংয়ের জন্য এটা আদর্শ অবস্থা নয়।’’
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সেনা-সমর্থিত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল, তা ‘ওয়ান ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। দেশের রাজনীতিতে সেই সময়কাল বিতর্কিত এক অধ্যায় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারও কারও মতে, ওয়ান ইলেভেনের ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীন সরকারই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কায়েমের সুযোগ করে দিয়েছিল।