সম্প্রতি কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তি ও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বাতিল হয়েছে। ক’দিন ধরেই সামাজিকমাধ্যমে এ ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ আবার বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা, নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকেও একহাত নিয়েছেন! বিশেষ করে এই ঘটনায় তিনি কেন চুপ রয়েছেন—এমন সমালোচনা দেখা গেছে সামাজিকমাধ্যমে। এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওই ঘটনায় মুখ খুলেছেন সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, ‘‘‘টেলিভিশন’ ছবিতে এই জিনিস ডিল করছিলাম ১৩ বছর আগে। ১৩ বছর পরে আইসা এই জিনিস শুনলে বিরক্ত লাগে।’’
২০১৩ সালে মুক্তি পায় ফারুকী পরিচালিত সিনেমা ‘টেলিভিশন’। যেখানে ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও প্রযুক্তির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার চিত্রকে ফুটিয়ে তোলেন এই নির্মাতা।
মঙ্গলবার (২ মে) সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন এই সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা প্রদর্শনী বাতিলের পেছনে জড়িত উগ্রবাদী মহলকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত না।
তিনি লেখেন, ‘‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা অনেক দেরিতে জানলাম। যাইহোক, এটা একটা ফ্রিঞ্জ এলিমেন্ট হইলেও এসব প্রশ্রয় দেয়া উচিত না। কারও কাছে সিনেমা হারাম মনে হইলে সে দেখবে না। কিন্তু মুশকিল হইলো তার অপছন্দ যখন সে অন্যের ওপর চাপাইয়া বলতে চায় ‘তুমিও সিনেমা দেখতে পারবা না’!’’
যোগ করে ফারুকী লেখেন, ‘বাংলাদেশের ধর্মীয় ক্যাম্পের কিছু মানুষ এই রকম উদ্ভট আচরণ করার মধ্যদিয়ে দেশকে বিতর্কিত করে, এমনকি তার ধর্মকেও বিতর্কিত করে। টেলিভিশন ছবিতে এই জিনিস ডিল করছিলাম ১৩ বছর আগে। ১৩ বছর পরে আইসা এই জিনিস শুনলে বিরক্ত লাগে।’
সামাজিকমাধ্যমে কেউ কেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে ব্যাখ্যা দাবি করছেন। কিন্তু আদতে দেশের চলচ্চিত্রশিল্প পরিচালিত হয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সেই বিষয়টি ইঙ্গিত করে ফারুকী লেখেন, ‘যাইহোক, এটার (বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী বাতিল) জন্য সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে সবাই ব্যাখ্যা চাইছে। বেচারা নিতাই বাবুর হাতে যে সিনেমা নাই, এটা অনেক ইনফর্মড (সচেতন) লোকও জানে না। তবে তারা কমনসেন্স থেকে যে কালচারাল মিনিস্ট্রিকে অ্যাড্রেস করছে—এটা যথাযথ।’
অর্থাৎ মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতে, চলচ্চিত্রশিল্প তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, বরং তা থাকা উচিত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।
প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ৩০ মে জেলার অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বনলতা এক্সপ্রেস ছবির প্রদর্শনী আয়োজন করেছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। অন্যদিকে, এই প্রদর্শনী বন্ধের দাবিতে সামাজিকমাধ্যমে নানা ‘অপপ্রচারমূলক’ পোস্ট করতে থাকে স্থানীয় কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীরা। অবশেষে তাদের আপত্তি ও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বাতিল হয় এই আয়োজন।
এদিকে, বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বাতিল হওয়ার প্রতিবাদে সোমবার (১ জুন) সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘যারা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, যারা বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে।’’


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী স্থগিত, সরকারের উদ্দেশে যা বললেন আশফাক নিপুন
