সালমান শাহ হত্যা মামলা: দেহাবশেষ তোলার চেয়ে আসামি গ্রেপ্তার জরুরি বলছেন আইনজীবী

প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের চেয়ে হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়াই বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী। তার মতে, প্রায় ৩০ বছর পুরোনো মরদেহের ময়নাতদন্ত থেকে যে তথ্য পাওয়া যেতে পারে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে।

আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর শিগগিরই সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে পুনরায় ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়কে পরিণত হন। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব ফ্যাশন ও স্টাইলের কারণে এখনও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয় তিনি।

১৯৯৬ সালে রহস্যজনকভাবে মারা যান এ অভিনেতা। তার মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে শুরু থেকেই এ মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের দুই মাস পর সালমান শাহর মামা নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই আদালত দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, তদন্তে পাওয়া কিছু আলামতে চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহারের ইঙ্গিত রয়েছে। সে কারণেই তদন্তকারী কর্মকর্তা দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এত দীর্ঘ সময় পর মরদেহে কোনো ধরনের চেতনানাশক ওষুধ বা মাদকের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের বক্তব্যে উল্লেখ আছে, তাকে চেতনানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। কিছু আলামতও পাওয়া গিয়েছিল। তবে এতদিন পরে ওই ধরনের কোনো উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে কি না, তা বলা কঠিন।”

একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, মামলার অগ্রগতির জন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে তার স্ত্রী সামিরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক, প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।