‘আমি অসহায়, মনে হচ্ছে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না’, কান্নায় ভেঙে পড়লেন জ্যোতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমায় নানা জটিলতায় পড়তে শুরু করেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কেউ তাঁকে অভিনয়ের জন্য ডাকছে না। বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামীপন্থী তারকাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘আলো আসবেই’কে কেন্দ্র করেও সামাজিকমাধ্যমে নানা বিতর্কে পড়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। অবশেষে এসব আর সহ্য করতে না পেরে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এই অভিনেত্রী। 

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জ্যোতিকা জ্যোতি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, অনলাইন হয়রানি ও কাজের সংকটে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত তিনি। এমনকি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’

লাইভের শুরুতেই জ্যোতির ভাষ্য, নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর আমরা অনেক কথা বলি। কিন্তু যে মানুষটি সেই অবস্থার মধ্যে থাকে, তাঁর কষ্টটা সে-ই জানে। আমি নিজেকে সবসময় শক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না।’

অভিনেত্রীর দাবি, গত দুই বছর ধরে তাঁর হাতে তেমন কোনো কাজ নেই। এ সময়ে তাঁকে নিয়মিত অনলাইন হয়রানি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানালেন, অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকে সাহায্য নিতে হচ্ছে, যা তাঁকে আরও মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।

জ্যোতি অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে একাধিক পক্ষের সমালোচনা, হুমকি এবং অনলাইন বুলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। বিভিন্ন সময় তাঁকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

বর্তমান সরকারের প্রতি জ্যোতির আবেদন, এই পরিস্থিতির অবসান চান তিনি। জীবনের এই কঠিন সময় থেকে বেরিয়ে আসতে চান বলেও জানান। লাইভের শেষদিকে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি অসহায়। আমি দুঃখিত, এভাবে আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হলো। কিন্তু আমার আর শক্তি নেই। আমার মনে হচ্ছে, আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন জ্যোতিকা জ্যোতি। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি তিনি ‘আয়না’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘জীবনঢুলি’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ এবং কলকাতার ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’সহ একাধিক আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।