বিংশ শতাব্দীর সত্তর-আশি দশকে আমেরিকার ফ্লোরিডায় আন্ডারওয়ার্ল্ড জগতে (বিশেষত মায়ামি) ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন গডমাদার গ্রিসেলদা ব্লাঙ্কো। তাঁর ছিল চার ছেলে। শুধু মাদকসম্রাজ্ঞী হিসেবেই নয়, মাতৃত্বের জন্যও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। সম্প্রতি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গ্রিসেলদা: আ ওম্যান অব সাবস্ট্যান্স’ সিরিজের সুবাদে সিনেদুনিয়ার আলোচনায় উঠে এসেছেন সেই মাফিয়াকুইন। এতে তাঁর চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলম্বিয়ান অভিনেত্রী সোফিয়া ভারগারা। সিরিজটি এতটাই ছাপ ফেলেছে যে, ইতিমধ্যে গ্রিসেলদা ও তাঁর সন্তানদের নিয়ে দর্শকের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যক্তিজীবনে গ্রিসেলদার চার ছেলে—ডিক্সন ট্রুজিলো ব্লাঙ্কো, উবার ট্রুজিলো ব্লাঙ্কো, অসভালডো ট্রুজিলো ব্লাঙ্কো ও মাইকেল কোরলিওন ব্লাঙ্কো। মায়ামিতে তাঁরাও ড্রাগলর্ড হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিলাসিতা উপভোগ করেছেন, তবে সেজন্য তাঁদের চরম মূল্যও দিতে হয়েছে।
সন্তানদের কী হয়েছিল
গ্রিসেলদার তিন বড় ছেলে—ডিক্সন, উবার ও অসভালডো মারা গেছেন বলে রিপোর্ট হয়েছে বছরের পর বছর। যদিও ‘ডেস্পিয়ের্টা আমেরিকা’ নামের এক চ্যাট শোতে কোকেইন-সাম্রাজ্ঞীর ছোটছেলে মাইকেল দাবি করেছিলেন তাঁর এক ভাই এখনও বেঁচে আছেন। এদিকে, মায়ামি নিউ টাইমসের মতে, বড় তিন ছেলের মধ্যে অন্তত দুজন খুন হয়েছেন। মায়ের ঘটানো হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের বলি হয়েছিলেন তাঁরা।
সিরিজে গডমাদার যখন তাঁর সন্তানদের মৃত্যুর খবর পান তখন তিনি কারাগারে বন্দি। এজেন্ট জুন হকিন্স (কাল্পনিক) সোফিয়া ভারগারাকে (গ্রিসেলদা) বলেন, ‘ডিক্সন যখন তাঁর গাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন তখন তাঁকে গুলি করা হয়। ওজি (অসভালডো) ছিলেন নাইটক্লাবে। আর কলম্বিয়ায় মাদক চালানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন উবার।’
যদিও ওই চ্যাট শোয়ে মাইকেল কখনও প্রকাশ করেননি তাঁর কোন ভাই এখনও বেঁচে আছেন। শুধু জানান, তিনি নিজে বেঁচে থাকার জন্য তাঁর মায়ের সাম্রাজ্য ছেড়ে ‘পিওর ব্লাঙ্কো’ নামের একটি লাইফস্টাইল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
নেটফ্লিক্স সিরিজ নিয়ে অভিযোগ
গ্রিসেলদার ছেলেদের মধ্যে একমাত্র জীবিত রয়েছেন মাইকেল। তিনি তাঁর মায়ের জীবন ও মাদক সাম্রাজ্যকে অনুমতি না নিয়ে চিত্রিত করার অভিযোগ এনে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মাইকেলের দাবি, তাঁর দেওয়া সাক্ষাৎকারগুলো এ সিরিজে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর সেজন্য নেটফ্লিক্স বা প্রযোজক এরিক নিউম্যান তাঁকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেননি।
অভিযোগপত্রে মাইকেল বলেন, ‘নেটফ্লিক্স যে ধারণাগুলো ব্যবহার করেছে তা একটি সাক্ষাৎকারের অংশ, যা স্মৃতিচারণমূলক ও লিখিত কিছু নোট থেকে নেওয়া। অন্যকারও কাছে এই ধারণাগুলো থাকতে পারে না এবং অন্যকারও কাছে সেই গল্পগুলোও থাকতে পারে না।’
এদিকে, মাইকেলের এই অভিযোগের জবাবে সিরিজটির স্রষ্টা এরিক নিউম্যান এই জাতীয় মামলায় এমন পরিস্থিতি ‘নতুন কিছু নয়’ উল্লেখ করে জানান, সিরিজটি নিয়ে তিনি গর্বিত। এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এসকোবার পরিবারও (নারকোস সিরিজের জন্য) একই ধরনের দাবি করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি নির্দিষ্ট গল্প ছিল, যা আমরা বলতে চেয়েছিলাম। আমি বিশ্বাস করি আমরা সেটিই বলেছি এবং এতে মনে করি না কারও নিজস্ব অনুভূতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।’
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পায় ওয়েব সিরিজ ‘গ্রিসেলদা’। এতে সোফিয়া ভারগারা ছাড়াও অভিনয় করেছেন আলবার্তো গুয়েরা, মার্টিন রদ্রিগেজ, জুলিয়ানা আইডেন মার্তিনেজ, ভেনেসা ফারলিতো প্রমুখ। পরিচালনা করেছেন আন্দ্রেস বাইজ।