উগান্ডার বিরোধীদলীয় নেতা ববি ওয়াইন। পপতারকা থেকে রাজনীতিতে পা রেখে ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২০ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়োরি মুসেবেনির দমন-পীড়নের মুখে ব্যর্থ হয়েছিল তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্পেইন। এরপর থেকে ফোন ট্যাপিং (আড়ি পাতা) থেকে শুরু করে অপহরণের মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন ববির সমর্থকরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে এমনটাই জানিয়েছেন সংগীতশিল্পীর স্ত্রী বার্বি। পরিস্থিতি এখনও একই রয়েছে বলে দাবি তাঁর। তবে ৯৬তম অস্কার মনোনয়ন যেন নতুন আশা জাগিয়েছে ববি ওয়াইন ও তাঁর সমর্থকদের।
ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্মের প্রেসিডেন্ট ববি ওয়াইনকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘ববি ওয়াইন: দ্য পিপলস প্রেসিডেন্ট’। যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেছেন মোসেস বায়োও ও ক্রিস্টোফার শার্প। আসন্ন অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারে এটি সেরা তথ্যচিত্র (ফিচার ফিল্ম) বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। এরপরই দেশটির রাজনৈতিক চিত্রপট বদলে যেতে শুরু হয়েছে।
নির্মাতা মোসেস বায়োও দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যেদিন সকালে অস্কারের মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিন ববি ও বার্বি এবং তাঁদের সন্তানরা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গৃহবন্দি ছিলেন। কিন্তু অস্কারের সংবাদ প্রকাশের পরপরই তাঁদের বাড়ি থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।’
পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দৃশ্যধারণ করা এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে রাজনীতিতে ওয়াইনের উত্থান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সেনাবাহিনীর হাতে আটক, নির্যাতন ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অস্কার ছাড়াও তথ্যচিত্রটি বাফটা অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছিল। সম্প্রতি এর প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ববি ওয়াইন।
জানা যায়, তথ্যচিত্রটি নির্মাণকালে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন পরিচালক মোসেস বায়োও। শুধু তিনিই নন, এ সময় ওয়াইনের নির্বাচনী কার্যক্রম ও আন্দোলন কাভার করার জন্য অন্যান্য সাংবাদিকরাও নির্যাতিত হন। এমনকি দেশটির রাজধানী কামপালায় বায়োওকে একবার রাবার বুলেট দিয়ে মুখে গুলি করা হয়েছিল। তাঁর পরিবারকে দুইবার অপহরণের চেষ্টাও হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে নির্মাতা উগান্ডা ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়েছেন।
তথ্যচিত্রটি প্রসঙ্গে ওয়াইন বলেন, ‘এই চলচ্চিত্র আমাদের নতুন জীবন দিয়েছে। কারণ সরকার জানে যে তাদের নৃশংসতা সারাবিশ্ব এখন প্রত্যক্ষ করছে।’
এই বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য জানান, ২০২৬ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
চলচ্চিত্রটিকে ভালোবাসার সুদৃঢ় টান হিসেবে বর্ণনা করেছেন বায়োও। ঘেটো থেকে ওয়াইনের সংসদে যাওয়া এবং তাঁর গান তরুণদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা দেখে উচ্ছ্বসিত তিনি। বললেন, ‘আমাকে এই মুহূর্তে আমার দেশের ইতিহাস বলতে হবে।’
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ভেরিয়েন্স ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত ববি ওয়াইন—দ্য পিপলস প্রেসিডেন্ট। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ৭৯তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়।