ঘোষিত হলো চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কার। এ বছর ৯৭তম অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র হয়েছে শন বেকার পরিচালিত ‘আনোরা’। আর এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মাইকি ম্যাডিসন।
তবে এবারের আসরে পুরস্কারজয়ী নারীর সংখ্যা হাতেগোনা। সেরা অভিনেত্রী, সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগের বাইরে মাত্র দু’জন নারীর হাতে উঠেছে অস্কার! সব মিলিয়ে এবার পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ নারী শিল্পী।
মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র ‘এমিলিয়া পেরেজ’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন জো সালদানা। তিনিই ডোমিনিকান বংশোদ্ভূত প্রথম আমেরিকান, যিনি অস্কার জেতার নজির গড়লেন। মঞ্চে উঠে আবেগাপ্লুত জো তাঁর মাকে স্মরণ করেন এবং এমিলিয়া পেরেজ-এর সব শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর তিনি শিল্প জগতে অভিবাসীদের অবদান তুলে ধরেন।
জো তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমার দাদি ১৯৬১ সালে এই দেশে এসেছিলেন। আমি গর্বিত একজন অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান, যারা স্বপ্ন, সম্মানবোধ ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন। আমি ডোমিনিকান বংশোদ্ভূত প্রথম আমেরিকান, যে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করছে। আমি জানি, আমি শেষ ব্যক্তি নই। আমি আশা করি, এই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই চরিত্রে আমি গান গাওয়ার ও স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। যদি আমার দাদি আজ বেঁচে থাকতেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হতেন।’
অন্যদিকে, ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলিং বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে নারী শিল্পী হিসেবে রয়েছেন স্টেফানি গুইলন ও মেরিলিন স্কারসেলি। তাঁদের টিমে পুরুষ শিল্পী হিসেবে ছিলেন পিঁয়েরে-অলিভার পারসিন।
স্টেফানি গুইলন এর আগে ‘ব্রাদারহুড অব দ্য উলফ’ ও ‘লাভ সংস’ চলচ্চিত্রে মেকআপ ডিজাইন করে প্রশংসিত হয়েছেন। অন্যদিকে, কান চলচ্চিত্র উৎসব মাতানো বডি হরর ‘তিতান’ দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন মেরিলিন স্কারসেলি।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯৭তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। এ বছর সেরা চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেত্রী, সেরা পরিচালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচটি পুরস্কার জিতেছে ‘আনোরা’।