মাথা ন্যাড়া করার বিষয়ে যা বললেন ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ অভিনেত্রী

নেটফ্লিক্স সিরিজ ‌‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’র মাধ্যমে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী মিলি ববি ব্রাউন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এই সিরিজে ‘ইলেভেন’ ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য মাথা ন্যাড়া করার বিষয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। এই রূপান্তর প্রক্রিয়া এবং সেটি তাঁর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রভাব ফেলেছিল, সেই অভিজ্ঞতারও বর্ণনা করেন।

স্ট্রেঞ্জার থিংস’র জন্য মাথা ন্যাড়া করায় তাঁর তেমন উদ্বেগ ছিল না—এই কথা জানিয়ে মিলি বলেন, ‘আমি সত্যিই এতকিছু ভাবিনি, এবং সেটাই বলব যে পাত্তা দিইনি।’

যোগ করে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো উদ্বেগ ছিল না, যখন তারা চুল ন্যাড়া করেছিল, তখন বিমর্ষ ছিলাম না। আমি শুধু ভেবেছিলাম, দারুণ! এখন যা করছি তা-ই!’

মিলির ভাষ্য, ন্যাড়া চেহারা বজায় রাখা তাঁর কাজেরই অংশ, কারণ চিত্রগ্রহণের জন্য তাঁকে প্রয়োজনীয় দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে হত। তিনদিন অন্তর অন্তর চুল কামাতে হত। 

স্ট্রেঞ্জার থিংস সিরিজে মিলি। ছবি: সংগৃহীত

বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জাস্ট জ্যারেডের মতে, অবশেষে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত মাথা ন্যাড়া করার ফলে এই সম্পর্কে তাঁর অনুভূতিও বদলে যায়।

এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অভিনেত্রী স্মরণ করেন যে, বেশ কয়েক মাস পর তিনি ভিন্ন এক অনুভূতি অনুভব করতে শুরু করেন। বিশেষ করে তাঁর বয়স যখন ১১ কিংবা ১২ বছর। চারপাশের ছেলেরা তখন মেয়েদের প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে, কিন্তু তাঁর প্রতি কেন আগ্রহ দেখাচ্ছে না—এসব ভাবতে শুরু করেন তিনি।

মিলি জানান, এই অভিজ্ঞতার ফলে তাঁর মাঝে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। প্রায়শই মানুষের বিরূপ মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যা রীতিমতো নির্যাতন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য তিনি একসময় ‘উইগ’ পরা শুরু করেছিলেন।

স্ট্রেঞ্জার থিংস’র আরেকটি দৃশ্য মিলি। ছবি: সংগৃহীত

এত সংগ্রাম সত্ত্বেও, মিলি এখনও নিজের এই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন। তিনি বলেন, ‌‘সত্যি বলতে, আমি আজও অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করছি, এবং আমি আবারও তা করব।’

ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেত্রী আবারও মাথা ন্যাড়া করতে পারেন, যখন তিনি বাচ্চার মা হবেন। বাগদত্তা জ্যাক বোঙ্গিওভিকে মাঝেমধ্যেই মিলি জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রথম সন্তান জন্মের সময় তিনি চুল কামিয়ে ফেলতে চান। 

অভিনেত্রীর মতে, মাথা ন্যাড়া করা শারীরিক পরিবর্তনের চেয়েও বেশি কিছু ছিল, কারণ তিনি এই বিষয়কে স্বাধীন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জীবনের অন্য এক পর্যায়ে আবারও একই অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে যেতে চান।

সূত্র: পিঙ্কভিলা