গায়ের রং বদলেছিলেন জ্যাকসন? উত্তর দিলেন তাঁর ভাতিজা

জীবদ্দশায় আলোচনা ও সমালোচনা যেন মাইকেল জ্যাকসনের ছায়া হয়ে ছিল। মৃত্যুর দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও ‘কিং অব পপ’কে ঘিরে থাকা বিতর্কের অবসান ঘটেনি। বিশেষ করে তার গায়ের রঙ বদলে যাওয়া নিয়ে ভক্ত ও সমালোচকদের আগ্রহের শেষ নেই। অনেকেই মনে করেন, কৃষ্ণাঙ্গ এই তারকা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের গায়ের রং ফর্সা করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ধারণা বা গুজবকে আবারও নাকচ করে দিয়েছেন তার পরিবারের সদস্য।

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। আর এই সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় চাচার চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন শিল্পীর ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। গত ২০ এপ্রিল লস অ্যাঞ্জেলেসে সিনেমাটির প্রিমিয়ার শোতে রেড কার্পেটে হাঁটার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে ‘এক্সট্রা’ টিভির প্রতিনিধি ডেরেক হাফের এক প্রশ্নের জবাবে জাফার স্পষ্ট করেন মাইকেলকে নিয়ে মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণার কথা।

জাফার বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা? আমার মনে হয়, তিনি শ্বেতাঙ্গ হতে চেয়েছিলেন—এটাই। এই সিনেমাটি দেখলে মানুষ বুঝতে পারবে আসলে পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল। মূলত শ্বেতী রোগ তার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারেন না। একদম অল্প বয়স থেকেই তিনি এই কঠিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করছিলেন।’

১৯৯৩ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া এক বিখ্যাত সাক্ষাৎকারে মাইকেল নিজেও ব্লিচিং বা রঙ ফর্সা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৮২ সালে ‘থ্রিলার’ অ্যালবাম প্রকাশের পর থেকেই তার ত্বকে সাদা দাগ পড়তে শুরু করেছিল।

আরেকটি মজার তথ্য হলো, মাইকেল জ্যাকসনের সেই আইকনিক ‘এক হাতের দস্তানা’। অনেকেই একে কেবল ফ্যাশন মনে করলেও এর পেছনে ছিল অন্য কারণ। প্রখ্যাত অভিনেত্রী সিসিলি টাইসন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, হাতের শ্বেতী রোগ আড়াল করতেই মাইকেল ওই দস্তানাটি ব্যবহার শুরু করেছিলেন।

নতুন এই বায়োপিকটি মূলত মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের সেই অজানা অধ্যায়গুলোকেই সামনে আনবে, যেখানে বর্ণবাদ বা কৃত্রিমতার চেয়ে একজন শিল্পীর শারীরিক ও মানসিক সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠবে। সিনেমাটি আজ সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তি পেয়েছে।