বিশ্বজুড়ে আজ মুক্তি পেল ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন ছবি ‘দ্য ওডিসি’। গ্রিক কবি হোমারের একই শিরোনামের মহাকাব্য অবলম্বনে এটি নির্মিত হয়েছে। আর সেই মহাকাব্য এতই প্রাচীন, যা আনুমানিক ২,৮০০ বছর আগে লেখা হয়েছিল বলে প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু সিনেমাটির প্রচারণায় গত ৫ জুলাই লন্ডনে এর চেয়েও প্রাচীন একজোড়া কানের দুল পরে নজর কেড়েছেন মার্কিন অভিনেত্রী জেন্ডায়া। এতে তিনি যেমন অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন, তেমনি সামাজিকমাধ্যমে তা ঘিরে রীতিমতো তোলপাড়! তাঁর এই কানের দুলজোড়া নিয়ে নেটিজেনদের নানা প্রশ্ন আর সমালোচনা।
১৯৪৭ সালে ইরানে আবিষ্কৃত একজোড়া সোনার মেডেলিয়ন (পদক) থেকে তৈরি করা হয়েছে এই দুলজোড়া, যা প্রায় ৩,০০০ বছর পুরনো বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো ছিল ‘গোল্ডেন হোর্ড’র অংশ—যা গহনা, সিরামিক এবং অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শনের এক বিশাল সংগ্রহ। বর্তমানে বিশ্বের প্রধান প্রধান জাদুঘরে এসব জিনিস সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে শতাব্দী প্রাচীন অন্য যেকোনো জিনিসের মতো এই দুলজোড়া নিয়েও বেশকিছু প্রশ্ন উঠেছে।
দ্য ওডিসি’র লন্ডন প্রিমিয়ারে জেন্ডায়ার ছবিগুলো প্রকাশের কয়েকদিন পরেই নেটিজেনরা জানতে চেয়েছিল, কীভাবে এই প্রাচীন নিদর্শন ব্যক্তিগত সংগ্রহে গেল? এগুলো কি অনৈতিক বা অবৈধভাবে ইরান থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল? এসব গহনা যে সমাজ-সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে, সেখানকার মানুষেরা কি এগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্ন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন যুদ্ধের ময়দানে পরস্পরের মুখোমুখি, তেমন এক সময়ে আমেরিকান চলচ্চিত্রের প্রচারে জেন্ডায়ার এমন ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বেছে নেওয়া কি একটু বেশিই দৃষ্টিকটু নয়?
সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ নেটিজেনদের একটি অংশ অভিনেত্রীর এমন কানের দুল ব্যবহারকে ফ্যাশন-অসচেতনতা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, জেন্ডায়া পুনরাবৃত্তিকারী এক অপরাধী! কারণ এই সিনেমার অন্য একটি প্রচারণা অনুষ্ঠানের জন্য ইতালীয় ফ্যাশন হাউস ‘সচিয়াপ্যারেলি’র একটি সাদা গাউন প্যারিস থেকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে জেন্ডায়াই প্রথম কোনো মার্কিন তারকা নন, যে কিনা রহস্যজনকভাবে পশ্চিমাদের হাতে চলে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গহনা নিজের ছবির প্রচারে ব্যবহার করেছেন। এর আগে, গত জানুয়ারিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে মার্গো রবি তাঁর ‘উদারিং হাইটস’ চলচ্চিত্রের প্রচারের সময় গলায় ঐতিহাসিক তাজমহল হীরা পরেছিলেন। সেই হীরার সঙ্গে সিনেমাটির কিংবা অষ্টাদশ শতকের পটভূমির কোনো সম্পর্কই ছিল না, বরং সেটির সঙ্গে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যিনি তাঁর স্ত্রী নূরজাহানের জন্য এটি তৈরি করিয়েছিলেন।
ঐতিহ্যবাহী গহনার ক্ষেত্রে আরও একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল পাতিয়ালার মহারাজা ভূপিন্দর সিংয়ের ‘পাতিয়ালা নেকলেস’ ধার দেওয়ার বিষয়ে ফরাসি লাক্সারি ব্র্যান্ড কারটিয়ারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে মেটগালায় মার্কিন মডেল এমা চেম্বারলেইনকে সেই নেকলেসের একটি অংশ পরার অনুমতি দিয়েছিল ফরাসি প্রতিষ্ঠানটি, কিন্তু ২০২৬ সালে সেটি পরার জন্য ভারতীয় তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্জ অনুরোধ করলে তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করে!