চেহারার ভয়ঙ্কর বদল নিয়ে আসছে ‘ক্লেফেইস’

বিশ্বব্যাপী ২৩ অক্টোবর মুক্তি পেতে যাচ্ছে ডিসি কমিকসের এক পরিচিত ভিলেনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হরর সিনেমা ‘ক্লেফেইস’। একই দিনে তা বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাচ্ছে। 

জেমস ওয়াটকিন্স পরিচালিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন টম রিস হ্যারিস, নাওমি অ্যাকি, ম্যাক্স মিঙ্গেলা, ডেভিড ডেনসিক, এডি মারসন প্রমুখ। 

ব্যাটম্যান ইউনিভার্সে ক্লেফেইস এমন এক চরিত্র, যার শরীর কাদার মতো পরিবর্তিত হতে পারে। চেহারা বদলে হতে পারে অন্য মানুষ! ফলে এই চরিত্রকে ঘিরে রহস্য, ভয়, পরিচয় সংকট ও শারীরিক রূপান্তরের মতো বিষয়গুলো গল্পজুড়ে ফুটে উঠে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ম্যাট হ্যাগেন, যে কিনা গোথাম শহরের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী; ধীরে ধীরে হলিউডের জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন। কিন্তু স্থানীয় এক অপরাধী চক্রের প্রধানের কর্মকাণ্ডে তার মুখ ভয়াবহভাবে বিকৃত হয়ে যায়। এর ফলে তার অভিনয়জীবন, ব্যক্তিজীবন ও ভবিষ্যৎ সবকিছুই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। যখন তার আশপাশের মানুষ ও সহযোগীরা তাকে ছেড়ে চলে যায়, তখন ম্যাট নিজের আগের চেহারা ফিরে পাওয়ার জন্য একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা-পদ্ধতির আশ্রয় নেয়। চিকিৎসাটি তাকে আগের চেহারা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হলেও ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তার শরীর ও মানসিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন শুরু হয়। ধীরে ধীরে তিনি এমন এক সত্তায় পরিণত হন, যে নিজের পরিচয়, মানবিকতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক হারাতে থাকে। শেষপর্যন্ত তার জীবনে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা তীব্র রূপ নেয়।

সিনেমাটি সাধারণ কোনো সুপারহিরোনির্ভর অ্যাকশন গল্পের নয়, বরং মূল পটভূমি বডি হরর ঘরানার—যেখানে মানুষের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে ভয় ও আতঙ্কের উৎস হিসেবে দেখানো হয়। যেমন, মুখ গলে যাওয়া বা বিকৃত হওয়ার মতো দৃশ্য, শরীরের আকৃতি পরিবর্তনের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা, মানসিক বিপর্যয় ও প্রতিশোধের অন্ধকার দিক, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ পরিণতি। 

পরিচালক জেমস ওয়াটকিন্স ও চিত্রনাট্যকার মাইক ফ্ল্যানাগানের যুক্ত হওয়া এ সিনেমাকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে। ডিসি কমিকসের একটি তুলনামূলক কম পরিচিত ভিলেনকে নিয়ে প্রচলিত সুপারহিরো ফর্মুলার বাইরে গিয়ে হরর সিনেমা নির্মাণই এতে বড় বৈশিষ্ট্য। সিনেমাটি দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে যেসব কারণে তা হলো— 

নতুন ধরনের ডিসি সিনেমা: ব্যাটম্যানের পরিচিত জগতের চরিত্র হলেও গল্পের কেন্দ্র অ্যাকশন নয়, আতঙ্ক ও মানসিক পরিবর্তন। 

চরিত্রনির্ভর গল্প: একজন মানুষের সৌন্দর্য, পরিচয় ও মানবিকতা হারানোর বেদনাদায়ক যাত্রা।

ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও মেকআপ: ক্লেফেইসের শরীর ও মুখের রূপান্তর পর্দায় কতটা বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়, সেটি দর্শকদের আগ্রহের বড় কারণ। সিনেমাটির ট্রেলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পর থেকে এটি সিনেপ্রেমী ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।