বিএনপির রোড শোয়ের এই গায়ক নকলও গায়, অশ্লীলও গায়: আসিফ

সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর সর্বদা অকপট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব। নানা ইস্যুতে প্রায়ই মুখ খোলেন। এবার এক ব্যক্তির ওপর ক্ষোভ ঝারলেন তিনি। জানালেন, ওই ব্যক্তি তাঁর নাম ও কণ্ঠ নকল করে দীর্ঘদিন ধরেই ইউটিউবে গান প্রকাশ করে আসছে। শুধু তাই নয়, প্রকাশিত সেসব গানে শ্রোতাদের নজর কাড়তে থাম্বনেইলে আসিফের ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফ লেখেন, ‘আমি বিএনপির রোডমার্চের গানও গাইনি, আবার আওয়ামী উন্নয়ন বন্দনার পদ্মা সেতুর গানও গাইনি। এর আগে একটা হিন্দি গান গেয়ে আমার নাম/ ছবি জুড়ে দেয়া হয়েছিল। আজকে সকালে একজন পাঠালো বারো ভাতারির গান—এই গানটিও আমি গাইনি অথচ আমার নাম/ ছবি এটাতেও জুড়ে দেয়া হয়েছে।’

থাম্বনেইলে জুড়ে দেওয়া হয় আসিফকে। ছবি: ইউটিউব/ স্ক্রিনশট

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ‘স্টুডিও দোতারা’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘আমার বন্ধুর মনটা বড় বারোভাতারি’ গানটি প্রকাশ করে সেটিতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে আসিফের ছবি। অথচ সেই গানে আদতে কণ্ঠই দেননি তিনি। গানটি গেয়েছেন ম্যাক্স কুমার নামের এক ব্যক্তি। আসিফের মতে, তাঁকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলেরই জয়গান গাইতে দেখা যায়।

অভিযোগ সামনে এনে আসিফ লেখেন, ‘পদ্মা সেতু এবং বিএনপির রোড শো থিম সংয়ের এই গায়ক একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ-বিএনপির জয়গান গাইতে সক্ষম। সে নকলও গায়, অশ্লীলও গায়। বিএনপির রোড শোসহ সব প্রোগ্রামে তাকে এখন নিয়মিতই দেখি। আমার কণ্ঠ নকল করা তার নেশা, তাতে অসুবিধা নাই। সমস্যা হচ্ছে আমার ছবি আর নাম ব্যবহার নিয়ে, এটা জোচ্চোরের কাজ।’

ম্যাক্স কুমারের এসব কর্মকাণ্ডে কেন আইনীব্যবস্থা নিচ্ছেন না, সে কথা জানিয়ে ওই পোস্টে আসিফ লিখেছেন, ‘আগের তুলনায় আমি এখন যথেষ্ট শান্ত, হুটহাট রেগেও যাই না। আবার আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার মত সময় আর মানসিকতাই নাই। যে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়েছে তার বিরুদ্ধেই কোনো অ্যাকশন নেওয়া হয়নি। সমাজে এসব ভাইরাস কালে কালে আসে, পৃষ্ঠপোষকও নিকটজন। ফেসবুকের মত পাবলিক প্লেসে এই ইস্যুটা তুলে ধরলাম। ভদ্রলোক হয়ে গেছি মানে আমি দুর্বল নই, শুধু কাদায় গিয়ে শুয়োরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে নিজের গায়ে কাদা মাখাতে চাই না। এই ধরনের অসভ্য উপদ্রবগুলো থাকবেই, আমার শ্রোতারা বিভ্রান্ত হবেন না আশা করি। ভালবাসা অবিরাম।’