সাদি মহম্মদকে নেওয়া হচ্ছে না শহীদ মিনারে, শায়িত হবেন মোহাম্মদপুরে

কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ আর নেই। বুধবার (১৩ মার্চ) রাতে নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিন বিষয়টি ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাদি মহম্মদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ধানমন্ডির আল মারকাজুল ইসলামীতে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, আজ (১৪ মার্চ) বাদ জোহর রাজধানীর মোহাম্মদপুর জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে সাদি মহম্মদের নামাজে জানাজা। এরপর তাঁকে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এদিকে, তাঁর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সাদি মহম্মদের পারিবারিক সদস্য গাউসুল আলম শাওন।

রবীন্দ্রসংগীতের ওপরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন সাদি মহম্মদ। ভরাট কণ্ঠস্বরের শিল্পী হিসেবে শুরু থেকেই তাঁর নামডাক ছিল। তাঁর গলায় বহু রবীন্দ্রসংগীত হয়েছে সমাদৃত। এ শিল্পীর প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রবি রাগ।   

অন্যদিকে, শহীদ পরিবারের সন্তান সাদি মহম্মদ। তাঁর বাবা শহীদ সলিমউল্লাহ। ১৯৭১ সালে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে তাঁদের বাড়ি ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার। 

একাত্তরের ২৩ মার্চ তাজমহল রোডের সেই বাড়িতে সেজ ছেলে সাদি মহম্মদ তকিউল্লাহর আঁকা বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান বাবা সলিমউল্লাহ। সেই পতাকা সেলাই করে দিয়েছিলেন সাদি-শিবলীর মা জেবুন্নেছা সলিমউল্লাহ। পতাকা ওড়ানোর সূত্র ধরে একাত্তরের ২৬ মার্চ অবাঙালি বিহারি ও পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে সলিমউল্লাহর বাড়ি। পুড়িয়ে দেওয়া হয় সেটা। শহীন হন সলিমউল্লাহ।