সোলস’র ৫৩ বছরের পথচলার মধ্যে ৪৭ বছরই ব্যান্ডটির সঙ্গে ছিলেন নাসীম আলী খান। কিন্তু বছর দুয়েক ধরে তিনি আর সোলস-এ নেই। হেঁটেছেন নিজের পথে। গঠন করেছেন নতুন ব্যান্ড, যার নাম ‘নাসীম আলী খান প্রজেক্ট’। নতুন ব্যান্ড, সংগীত ভাবনা ও বিভিন্ন বিষয়ে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাব্বানী রাব্বি
নতুন ব্যান্ডের নাম কী রেখেছেন?
নাসীম আলী খান: নতুন ব্যান্ডের নাম দিয়েছি আমার নামে। আসলে এখন আর নতুন নাম বেছে নিতে চাই না। ব্যান্ডের নাম ‘নাসীম আলী খান প্রজেক্ট’। বিদেশে এ রকম একক শিল্পীদের নিয়ে ব্যান্ড রয়েছে।
নতুন পরিবারের সদস্য কারা?
নাসীম আলী খান: ড্রামসে আছে আশিক (আহসানুর রহমান আশিক)। সে-ও সোলস-এ ছিল, কিন্তু আমি ছাড়ার সাথে সাথে সে-ও চলে এসেছে। এ ছাড়া বেস গিটারিস্ট রানা (জাকির হাসান রানা) রয়েছে, একসময় ও-ও সোলস-এ বাজাত। কি-বোর্ডে মাকসুদের (মাকসুদুল হক) সঙ্গে বাজাত সোহাগ, সে-ও আছে। স্যাক্সোফোন বাজাবে পাভেল, আর গিটারে আছে রূপম।
সোলস’র সঙ্গে আপনার দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময়ের পথচলা, হঠাৎ কী এমন হলো যে, ছেড়ে যেতে হলো?
নাসীম আলী খান: ব্যান্ডে আমি থাকতে পারিনি, কারণ আমি সময় দিতে পারছিলাম না। অতিরিক্ত সময় ডিমান্ড (চাহিদা) করছিল সোলস। যেমন বাংলাদেশ থেকে বাইরে গিয়েও বছরে তিন-চার মাস বিদেশে থাকতে হয়, এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়; কারণ আমি তো ব্যবসায়ী। দ্বিতীয়ত, আমার অফুরন্ত গান না-গাওয়া অবস্থায় পড়ে আছে। সেগুলো ব্যান্ডের সঙ্গে গাওয়া যেত না, যেহেতু একটা গণ্ডির মধ্যেই ছিলাম আমরা।
এখন তো নতুন ব্যান্ড গড়েছেন, সেখানেও সময় দেওয়ার বিষয় রয়েছে। তাহলে নতুন ব্যান্ড গড়ার আগে সোলস-এ ফেরার ভাবনা কাজ করছিল কিনা?
নাসীম আলী খান: একটু আগে যেমনটা বলছিলাম, সোলস’র জন্য অনেক সময় দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নতুন ব্যান্ডে এই সংকট নেই; যখন সময় বের করতে পারব, তখন যাব।
‘নাসীম আলী খান প্রজেক্ট’ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
নাসীম আলী খান: আমার মৌলিক গান অনেক আছে। ওইসব গান নিয়েই এখন ভাবনা। আমার নিজের গাওয়া সোলস’র গান তো আছেই, নকীব ভাইয়ের (নকীব খান) কিছু গান করব। এ ছাড়া আমার নিজস্ব অনেক গান আছে, যেগুলো আমি প্রকাশ করতে চাইছি—এ কারণেই মূলত আলাদা হয়েছি।
এরইমধ্যে নতুন গানে কি সুর বেঁধেছেন?
নাসীম আলী খান: অনেক! অনেক! অনেক! একটা-দুটো নয়, অনেক গান রয়েছে।
ভক্তরা কবে নাগাদ সেইসব নতুন গান শুনতে পাবেন?
নাসীম আলী খান: আজকাল তো অ্যালবাম বের হয় না, ইউটিউবে রিলিজ হয়; সেভাবেই বের হবে। অডিও-ভিডিও হবে।
একসময় ক্যাসেট অ্যালবাম ছিল, এরপর সময়ের বিবর্তনে এলো সিডি, এখন আবার অডিও কিংবা ভিডিও আকারে সিঙ্গেল গান প্রকাশের যুগ। এই পরিবর্তনকে কীভাবে দেখেন?
নাসীম আলী খান: পৃথিবী তো পরিবর্তন ছাড়া কখনও থেমে নেই, সবসময়ই পরিবর্তন হচ্ছে। আগে রেডিও ছিল, এরপর রেডিও থেকে টেলিভিশন। এখন টেলিভিশনও না, এখন ইউটিউবের যুগ। এরপর হয়তো অ্যাপে চলে যাবে। সুতরাং পরিবর্তন হবেই! আর পরিবর্তনের সঙ্গেই নিজেকে রাখতে হবে। পৃথিবীর সঙ্গে যদি আমরা পরিবর্তন না হই, তাহলে কেমন করে টিকে থাকব?
অনেকে ভিডিওর চেয়ে অডিও গানকে বেশি প্রাধান্য দিতে চান, এই ‘অডিও বনাম ভিডিও’ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
নাসীম আলী খান: অডিওর একটা ক্ষেত্র আছে, আবার ভিডিওর আলাদা একটা ক্ষেত্র আছে। অডিও একটা শিল্পমাধ্যম, আবার ভিডিও আরেকটা শিল্পমাধ্যম। দুইটা শিল্পমাধ্যম যদি একসাথে করা হয়, স্মার্টলি করা হয়—তাহলে সেটা আরও ভালো। আমি তো মূলত পেইন্টার। অনেক আগে থেকে। গান গাওয়ার আগে থেকেই চিত্র (ছবি) আঁকি। আমি অডিও-ভিডিও দুই জিনিসকে একসাথে করার পক্ষপাতী। মানুষ যখন অডিও গান শুনেন, তখন মনের মধ্যে কল্পনার একটা জগৎ তৈরি হয়, সেটা মজার জিনিস। আবার গানের সাথে একটা ভিডিও দিয়ে দিলে, সেটা যদি আর্টিস্টিক (শৈল্পিক) হয়—তাহলে সেটাও এক ধরনের মাত্রা সৃষ্টি করে।
নতুন ব্যান্ড গঠনের পর কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন?
নাসীম আলী খান: চ্যালেঞ্জ খুব একটা মোকাবিলা করতে হচ্ছে না। কারণ, যারা আমার নতুন ব্যান্ডে আছেন, তারা আমার মিউজিক সম্পর্কে জানেন। তারাও তো ব্যান্ডে ছিলেন, ব্যান্ডের সঙ্গেই বাজাতেন। আমার স্টাইল অব মিউজিক (সংগীতশৈলী) রপ্ত করতে তাদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। মাত্র দু’দিন প্র্যাকটিসে ক’দিন আগে একটা টেলিভিশন লাইভ শো করেছি আমরা, মানুষ খুব ভালোভাবে নিয়েছেন।
যেমনটা বলছিলেন যে, ছোটবেলায় ‘ছবি আঁকা’ ছিল আপনার বিশেষ আগ্রহের জায়গা, বন্ধুমহলে এ জন্য আপনার বেশ সুনামও রয়েছে। সেখান থেকে সংগীতের পথে যাত্রা কীভাবে?
নাসীম আলী খান: ছবি ছবির জায়গায় আছে, গান গানের জায়গায়। আমি তো এখনও ছবি আঁকি, এখনও গান গাই। গান লিখি। বই লিখি। আমি গীতিকার, সুরকার, গায়ক এবং ছবি আঁকছি। সৃজনশীলতার জায়গাটা আল্লাহ যা দিয়েছেন, তার মধ্যেই আছি।
শুরুর দিকে ইংরেজি গান গাইতেন, এবার নতুন ব্যান্ডে কি ইংরেজি ভাষার গানে মনোনিবেশ করবেন?
নাসীম আলী খান: এখন জীবনমুখী অনেক গান গাইছি, লিখছি। সেগুলো ইতিমধ্যে ইউটিউবে আছে। মানবতার ওপর লেখা ‘ফরগটেন সং’ নামের একটা ইংরেজি গান আছে; আমারই লেখা, আমারই সুর করা। এটার বাংলা করেছি, নতুন ব্যান্ডের মাধ্যমে দিব। এ ছাড়া এখন যে পৃথিবীতে অরাজকতা চলছে, চারপাশে যুদ্ধ-বিগ্রহ, বাচ্চাদের হত্যা করা হচ্ছে, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখা হচ্ছে না—এর প্রতিবাদে একটা ইংরেজি গান আন্তর্জাতিকভাবে রিলিজ দিব। এখানে রাজনৈতিক কিছু নেই; আমার মতে, যে অত্যাচার করবে—সে অত্যাচারী, যারা নিপীড়নের শিকার—তারা নিপীড়িত জনতা।