গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গানকে নিজস্ব ভঙ্গিতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া বংশীশিল্পী, সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বারী সিদ্দিকীর জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোণার এক সংগীতজ্ঞ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই অনন্য শিল্পীর ৭০তম জয়ন্তীকে ঘিরে আগামী সোমবার বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের। আয়োজনটি করবে ‘বারী সিদ্দিকী স্মৃতি পরিষদ’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন ফিরোজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শিল্পপতি ফিরোজ হায়দার খান। উদ্বোধন করবেন অতিথি গ্রুপের পরিচালক নূর নবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী, স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মনির হোসেন খান, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল আলম এবং অভিনেতা ডি এ তায়েব।
সন্ধ্যার সংগীতপর্বে অংশ নেবেন আশ্রাফ উদাস, শফি মন্ডল, শাহনাজ বেলী, রাজীব, পলাশ, মুনির বাউলা, পারভেজ খানসহ আরও অনেকে।
বারী সিদ্দিকী স্মৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কণ্ঠশিল্পী প্রিন্স আলমগীর বলেন, ‘বারী সিদ্দিকী শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন আত্মার গায়ক। তার সৃষ্টিগুলো আজও মানুষের হৃদয়ে সুর তোলে, আধ্যাত্মিকতার আলো জ্বালায়। নতুন প্রজন্মের কাছে তার গান পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আশা করছি আয়োজনটি সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পারব।’
আজীবন বাউল-ফকিরদের সংগীত, মাটি ও মানুষের গল্পকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করে গেয়েছেন বারী সিদ্দিকী। ‘শুয়া চান পাখি’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’সহ তার অসংখ্য গান দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে এখনও সমান জনপ্রিয়। ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর এই শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন; তবে তাঁর সুরের যাদু আজও অমলিন।