প্রেমিকার ফোনে ‘বড় মামা’ নামে সাবেক প্রেমিকের নম্বর, ভেঙে যায় মিনারের প্রেম

তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার মিনার রহমান সম্প্রতি তাঁর জীবনের এক ব্যক্তিগত স্মৃতি শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই স্মৃতিতে উঠে এসেছে তাঁর প্রথম প্রেম এবং সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনের এক প্রতারণার গল্প।

ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে মিনার জানান, জীবনের এই ছোট কিন্তু সত্য গল্পটি তিনি কখনো প্রকাশ করবেন—এমনটা ভাবেননি। তবে বহু বছর পর পবিত্র রমজান মাসের এক নির্জন মধ্যরাতে হঠাৎ মনে হয়েছে, গল্পটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত।

এরই মধ্যে কয়েক দিন ধরে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে মিনার রহমানের একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি একজন নারীকে একের পর এক খুদে বার্তা পাঠাচ্ছেন, কিন্তু সেসব বার্তার কোনো উত্তর আসছে না। বিষয়টি নিয়ে যখন নানা কানাঘুষা চলছিল, ঠিক তখনই নিজের প্রথম প্রেমের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন এই গায়ক।

মিনার জানান, অল্প বয়সেই তাঁর সংগীতজীবনের শুরু। স্কুলজীবনেই লিখে, সুর করে ও কণ্ঠ দিয়ে তিনি প্রকাশ করেন প্রথম অ্যালবাম ‘ডানপিটে’ (২০০৮)। তখন তিনি নবম-দশম শ্রেণিতে পড়তেন। এসএসসি পরীক্ষার পর অ্যালবামটি প্রকাশিত হয় এবং এর ‘সাদা’ গানটি অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা পায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের সময়টাকে তিনি জীবনের অন্যতম সুন্দর সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ—সব মিলিয়ে জীবন ছিল রঙিন। ঠিক সেই সময়ই প্রথমবার প্রেমে পড়েন মিনার। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২০ বছর।

মিনার রহমান ছবি: উইকি কমন্সতিনি জানান, যাঁকে ভালোবেসেছিলেন, তিনি পড়তেন অন্য একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস স্থায়ী ছিল সেই সম্পর্ক। শুরুটা বেশ সুন্দর হলেও ধীরে ধীরে একটি বিষয় তাঁর নজরে আসে। যখনই তাঁরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতেন, মেয়েটির ফোনে প্রায়ই ‘বড় মামা’ নামে কারও কল আসত।

মিনার বলেন, তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে খুব একটা ভাবেননি। ধারণা ছিল, পরিবারের সদস্য তো যেকোনো সময় ফোন করতেই পারেন। তবে একদিন একটি রেস্টুরেন্টে বসে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি করে।

সেদিন মেয়েটির ফোন টেবিলের ওপর রাখা ছিল। হঠাৎ ফোন বেজে ওঠে এবং স্ক্রিনে ভেসে ওঠে—‘বড় মামা’। কিন্তু মেয়েটি ফোনটি ধরেননি। কিছুক্ষণ পর কোনো কথা না বলেই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যান তিনি। সেদিনই প্রথমবার মিনারের মনে প্রশ্ন জাগে—এই ‘বড় মামা’ আসলে কে?

পরে সন্দেহ দূর করতে তিনি ফোন নম্বরটি মনে রাখেন এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, যাঁর নম্বর ‘বড় মামা’ নামে সেভ করা ছিল, তিনি আসলে ওই মেয়ের সাবেক প্রেমিক। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রথম প্রেমের সমাপ্তি ঘটে।

মিনার লিখেছেন, সেই ঘটনার পর ‘বিশ্বাস’ শব্দটি তাঁর কাছে অনেকটা মিথের মতো হয়ে গিয়েছিল। তখনই তিনি জীবনে নতুন একটি শব্দের সঙ্গে পরিচিত হন—‘চিট’ বা প্রতারণা।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই মানুষটিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলেও জানান। যদিও ঘটনাটি ভোলেননি। মিনার বলেন, “সে যেখানে থাকুক, ভালো থাকুক—এই কামনাই করি।”

এই স্মৃতি কখনো তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হয়, আবার কখনো করুণও মনে হয় বলে উল্লেখ করেছেন এই সংগীতশিল্পী। একই সঙ্গে তিনি দোয়া করেছেন—জীবনে যেন অন্য কেউ এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হয়।