একটি অফিস।
৯টা থেকে ৫টা আটপৌরে সময়ে চলে যন্ত্র নিয়ে হরেক কাজ। টেক কোম্পানি বলে কথা। তবে কাজের বাইরে অফিসের লোকগুলো যে সব সময়ই যন্ত্রের মতো চলে, তা নয়। তাদের মধ্যে আড্ডা হয়, চলে ঠাট্টা–তামাশা। আবার বিপদে–আপদে একে–অন্যের পাশেও দাঁড়িয়ে যায় দৃঢ়ভাবে। ঠিক এমনই এক অফিসে, এক রোজকার সকালে হুট করে মরে যায় এক বিশেষজন। অফিসের বিশেষ ব্যক্তি সব সময় মালিক বা বড় কর্তাই হয়। আর তখনই সামনে চলে আসে মালিক ও গোলামের সম্পর্কের বিষয়টি। এক অস্বাভাবিক মৃত্যুই জানিয়ে দেয়—কে মালিক, আর কে ছিল গোলাম!
মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য ছবির মতোই ‘গোলাম’–এরও মূল সম্পদ এর গল্প। যেমনটা লেখার শুরুতে বলা হয়েছে, খুবই দৈনন্দিন ঢঙে শুরু হয় গল্প। দেখানো হয় একেক শ্রেণির একেক জনের একেকভাবে অফিসে পৌঁছানোর দৃশ্য। সেখানে গিয়ে গুলতানি মারা, আড্ডা দেওয়া, সহকর্মীর সঙ্গে খুনসুটি—আরও কতও কী। কিন্তু বড় কর্তা এসে যাওয়ার খবর শুনেই সবাই শশব্যস্ত হয়ে লক্ষ্মী কর্মী হয়ে যায়! এমনটা আমাদের এখানকার অফিসগুলোর সঙ্গেও মিলে যায় বেশ। এ তো চিরন্তন সত্য দৃশ্যের মতো বিষয়। কিন্তু ঘটনা জটিল হয়ে পড়ে হঠাৎ গায়ের কাপড়ে পড়া কফি পরিষ্কার করতে গিয়ে বড় কর্তার মৃত্যুতে।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রঞ্জিত সজীব, দিলীশ পোঠান, সানি ওয়েনসহ আরও অনেকে। পরিচিত মুখ কমই। তবে কারও অভিনয় দেখলে মনেই হবে না যে কাঁচা কাজ। বরং এতটাই সাবলীল সব অভিনয়শিল্পীরা, যে অবাক হতে হয়। পরিমিত অভিব্যক্তি দিয়েই কাজ সেরেছেন সবাই। আর তাতেই কেল্লা ফতে।
মোদ্দা কথা, ‘গোলাম’ আপনাকে চমকে দেবেই। রহস্য উন্মোচনের পর থেকে নিজের ভেতরেও এমন প্রশ্ন জাগতে পারে যে— ‘আমিও কি গোলামই? কিন্তু কতটা?’ এমন উত্তরও আসতে পারে তখন—‘যতটা হলে বাঁচা–মরা সব মালিকের হাতে থাকে’!
তাহলে বরং দেখেই ফেলুন ‘গোলাম’। প্রথম কথা, সময়টা ভালো কাটবে। আর দ্বিতীয় কথা, এর সিক্যুয়েল আসার স্পষ্ট ঘোষণা আছে ছবির শেষে। তার আগেই মূল গল্পের চিত্রায়ণ দেখে নিলে কিন্তু জমবে ভালো!