গল্পের শুরুটা হয় পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত বড় কর্তার অভিজ্ঞতা বর্ণনার মধ্য দিয়ে। এক অনলাইন চ্যানেলে নিজের উপস্থাপনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেই উদয়ভানু নামের চরিত্রটি একটি আলোচিত পুলিশ কেসের বিষয়ে বিস্তারিত বলতে শুরু করে। তাতেই নিজের এক সময়কার দুই সহকর্মীর বিষয়ে বলতে শুরু করে উদয়ভানু। আর তাতেই দর্শকদের সামনে হাজির হয় এক দুর্দান্ত থ্রিলার, যার পরতে পরতে থাকে রহস্য।
এমন একটি কাহিনি নিয়েই চলতে শুরু করে ‘থালাভান’। ক্রাইম–মিস্ট্রি–থ্রিলার ঘরানার এই মালায়লাম সিনেমাটি চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে মুক্তি পায় সিনেমা হলে। মাস দুই আগে মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভ–এ। ১৩৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জিস জয়। ছবিটির চিত্রনাট্য লেখারও অংশ ছিলেন পরিচালক। অভিনয়ে ছিলেন বিজু মেনন, আসিফ আলী, মিয়া জর্জসহ আরও অনেকে।
এবার চলুন সিনেমার মূল কাহিনিতে ঢোকা যাক। আগেই যেটা বলা হয়েছিল যে, একই থানায় একই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দুই পুলিশ অফিসারে টক্কর লেগে যায়। জয়শঙ্কর ও কার্তিকের মধ্যে তৈরি হয় ব্যক্তিত্বের সংঘাত। সেই সংঘাত এতটাই চরম আকার নেয় যে বাহিনীর ঊর্ধ্বতনদের চেষ্টাতেও একে–অন্যের মুখ দেখাদেখিই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আর ওই বিষয়টিই নতুন রূপ ও মাত্রা পায় যখন জয়শঙ্করের বাড়ির ছাদে এক সকালে পাওয়া যায় একটি বস্তাবন্দী লাশ। সেই লাশ একজন নারীর যিনি কিনা জয়শঙ্করের মাধ্যমে জেলে ঢোকা এক অপরাধীর স্ত্রী। এভাবেই পুলিশ থেকে এক ধাক্কায় সন্দেহভাজন অপরাধীর কাতারে চলে যেতে হয় জয়শঙ্করকে। আর এই ঘটনার তদন্তে নামে কার্তিকই। কিন্তু তদন্তে নেমে একেবারে ধাঁধায় পড়ে যায় এই পুলিশ অফিসার। একের পর এক নতুন নতুন তথ্য এসে পুরো ঘটনাটিকেই জটিল করে ফেলে। একসময় কার্তিক ও জয়শঙ্কর—দুই জনেই বুঝতে পারে যে, খুবই কুটিল এক জালে তারা আটকে পড়ে যাচ্ছে! কে বা কারা করছে এসব? এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতেই এরপর আদাজল খেয়ে লেগে পড়ে জয়শঙ্কর ও কার্তিক।
জয়শঙ্করের চরিত্রে বিজু মেনন দারুণ অভিনয় করেছেন পুরো সিনেমায়। কার্তিকের চরিত্রে আসিফ আলীও ছিলেন দুর্দান্ত। অন্যান্য চরিত্রে যারা ছিলেন, তারাও বেশ পরিমিতভাবে অভিনয় করায় সিনেমাটি উপভোগ্য হয়েছে। কারও চরিত্রেই, তা যত ছোটই হোক না কেন, কোথাও বাড়াবাড়ি দেখতে হয়নি। ছিল না অতি অভিনয়। অন্যান্য মালায়লাম সিনেমার মতোই থালাভান–এরও মূল শক্তি এর গল্প ও টুইস্ট। তবে গল্পের টান টান উত্তেজনা বজায় রাখতে গিয়ে কখনোই একেবারে ছিঁড়ে যায়নি সুতো। ফলে দুই ঘণ্টারও বেশি দৈর্ঘ্যের সিনেমাটি দেখতে গিয়ে কখনও বিরক্তি বোধ হয় না। সিনেমাটোগ্রাফি ও আবহ সঙ্গীতও ছিল চোখ ও কানের জন্য আরামদায়ক।
‘হু ডান ইট’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে এগিয়ে যায় থালাভান। পরিচালক জিস জয় এক্ষেত্রে টুইস্ট এনেছেন নতুন নতুন চরিত্র এনে, নতুন তথ্য নিয়ে এসে। ফলে স্বীকার করতেই হয় যে, এক পর্যায়ে বহু চরিত্রের ভিড়ে কিছুটা ভারাক্রান্তই হয়ে পড়ে থালাভান। অজানা তথ্য ও চরিত্রকে হুট করে পর্দায় হাজির করেই থ্রিল ও মিস্ট্রি সৃষ্টির এবং তার সমাধানের চেষ্টা হয়েছে বেশি। হয়তো চিত্রনাট্য নিয়ে আরেকটু কাজ করলে, এই ঘনঘটার একটি সুন্দর রূপ দেখা যেত।
তবে কিছু নেতিবাচক দিক থাকলেও, থালাভান দেখার মতোই একটি সিনেমা। এর পেছনে ১৩৩ মিনিট ব্যয় করাটাও অপব্যয় নয় মোটেও। বিশেষ করে যারা ক্রাইম–মিস্ট্রি পছন্দ করেন, তাদের ভালোই লাগবে। সিনেমার শেষে পেয়ে যাবেন নতুন সিক্যুয়েলের স্পষ্ট ঘোষণাও।
তাহলে বরং দেখেই ফেলুন থালাভান। জেনে নিন দুই পুলিশ অফিসারকে ফাঁসানোর কারিগরের পরিচয়। চমকে যাবেন নিশ্চিত!